শিশুদের দেখেও মাদকাসক্ত মায়েদের মস্তিষ্ক থাকে প্রতিক্রিয়াহীন

0
26

একজন মায়ের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশ তার শিশুর হাসি মুখ দেখে উজ্জীবিত হয়। কিন্তু মস্তিষ্কের নতুন একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, প্রাকৃতিক এই প্রতিক্রিয়াটি মাদকাসক্ত মায়েদের বেলায় কাজ করে না। সাধারণত যখন একজন মা তার শিশুর হাসিমুখ দেখে, তখন মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিক্রিয়া বেড়ে যায়। যা মাকে শিশুর প্রতি যত্ন নেওয়ার আচরণগুলোতে উজ্জীবিত করে।
এই গবেষণার গবেষকরা জানিয়েছেন যে, ‘আমরা বুঝতে চেয়েছিলাম একজন মাদকাসক্ত মায়ের মস্তিষ্কে ঠিক কি ঘটে? যখন তারা তাদের শিশুদের সাহচর্যে আসে, সাধারণত বেশীরভাগ মা-ই তাদের সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানো উপভোগ করে। তবে, মাদকাসক্ত মায়েদের বেলায় এই প্রতিক্রিয়াটি স্বাভাবিকের চাইতে অনেক কম থাকে।’
মনে করা হয় মাদকাসক্ত মায়ের শিশুরা নির্যাতন এবং অবহেলায় সবচেয়ে বেশী ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মাদকাসক্তি কিভাবে মাতৃসুলভ আচরণের পরিবর্তন আনে তার সম্পর্কে খুব বেশী তথ্য জানা যায়নি। মানুষের উপর করা এটিই প্রথম পরীক্ষণ যাতে মাদকাসক্ত মায়েদের তার শিশুর প্রতি আচরণ পরীক্ষা করা হয়েছে। এই নতুন পরীক্ষণটি অনলাইনে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল হিউম্যান ব্রেইন ম্যাপিং এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকরা আরো জানান, তাঁরা ৩৬ জন মায়ের ফাংশনাল ম্যাগনেটিক রিসোন্যান্স ইমেজিং (এফএমআরআই) করিয়েছেন, যারা গর্ভকালীন সময়ে মাদক গ্রহণ করেছেন। যেখানে গবেষকরা দেখেছেন, যখন মায়েরা তাদের শিশুদের দেখে তখন মস্তিষ্কের বিশেষ অংশে ঠিক কি রকম পরিবর্তন ঘটে যখন সে অপরিচিত শিশুকে দেখে তার তুলনায়।
যখন মাদকাসক্ত মা তার শিশুর হাসিমুখ দেখে তখন তাদের মস্তিষ্কের বিশেষ অংশে কোনো প্রতিক্রিয়া ঘটে না। নিজের শিশুর হাসিমুখ সম্ভবত প্রত্যেক মায়ের জন্যই একটি পুরস্কার। মাদকাসক্ত মায়ের ক্ষেত্রে এটি কাজ করে না।
গবেষকরা আরো পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা, হিপোক্যামপাস, থ্যালামাস, ভেন্ট্রাল টেগমেন্টাল, সাবসটেন্সিয়াল নিগ্রা, সিঙ্গুলেট এই অংশহুলো প্রতিক্রিয়াহীন থাকে। মস্তিষ্কের এই অংশগুলো সামাজিক বুদ্ধিমত্তা এবং সহমর্মিতার সাথে যুক্ত।
এই গবেষণার কিছু সতর্কীকরণ রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের ৬৭ শতাংশ পরীক্ষণের সময় উদ্বিগ্নতা এবং বিষন্নতার ওষুধ গ্রহণ করেছে।
মাদকাসক্ত মায়েদের একটি বড় অংশ কোনো না কোনো সময় জীবনে বড় ধরণের মানসিক আঘাতের সম্মুখীন হয়েছেন, যা হয়তো সমাধান হয়নি।
 
তথ্যসূত্র: সাইপোষ্ট।
অনুবাদটি করেছেন সুপ্তি হাওলাদার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here