মানসিক স্বাস্থ্যের সবকিছু ENGLISH

Home মানসিক স্বাস্থ্য শিশু কিশোর শিশুর বিকাশ : পর্ব-২

শিশুর বিকাশ : পর্ব-২

জীবনের প্রথম বছরগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে প্রথম তিন থেকে পাঁচ বছর। এই বছরগুলোতে দ্রুত শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ, স্নায়ুতন্ত্রের উন্নয়ন ও মাইলিনেশন হয়। এই সময়টাতে শিশুর মস্তিষ্কের ওজন বয়ষ্কদের মস্তিষ্কের ওজনের ২৫ শতাংশ। তাই জীবনের প্রথম বছরগুলোর যত্ন ও ভালবাসা অত্যন্ত জরুরি এবং তাদের সারা জীবনের উপর প্রভাব ফেলে| শিশুর মানসিক বিকাশ নির্ভর করে তার আশেপাশের পরিবেশ ও অন্যদের আবেগপূর্ণ আচরণ দ্বারা। শিশুর পিতা-মাতাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যের উপর নির্ভর করে শিশুর আবেগ, অনুভূতিসহ অন্যান্য মানসিক বিকাশ।

তাই ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য বেড়ে ওঠা এবং মানসিক বিকাশের ভিত্তি শিশুকালের প্রথম আট বছর। এই সময়ে শিশুরা অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে তাড়াতাড়ি শেখে। বাচ্চারা তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠে ও তাড়াতাড়ি শেখে যদি তারা ভালবাসা, দেখাশোনা, উত্সাহ এবং মানসিক উদ্দীপনা পায় এবং তার সাথে পুষ্টিকর খাদ্য এবং সুস্বাস্থ্য ব্যবস্থা অতীব জরুরি।

স্পর্শ, গন্ধ এবং দৃষ্টি হচ্ছে শিশুর শেখার হাতিয়ার, যা দিয়ে সে তার চারপাশের দুনিয়াতে খোঁজে। শিশুদের সাথে কথা বললে, স্পর্শ করলে, জড়িয়ে ধরলে বা যখন ওরা পরিচিত মুখ দেখে, পরিচিত গলা শোনে এবং বিভিন্ন জিনিস নাড়াচাড়া করে, ওদের মন বিকশিত হয়। ওরা, ভালবাসা ও নিরাপত্তার অনুভূতি পেলে এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে মেলামেশা করলে তাড়াতাড়ি শেখে। সুস্থ্ পরিবেশ শিশুকে সুস্থ্ রাখে।

যে সব শিশুরা নিরাপদ বোধ করে তারা পরবর্তী জীবনে সহজেই বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতে ভাল করে মানিয়ে নেয়। শিশুর শারীরিক বা মানসিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত জরুরি| যদি শিশুর বিকাশ সঠিক ভাবে না হয়, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত। মনে রাখতে হবে যে, মাকে অবশ্যই শারীরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ্ থাকতে হবে শিশুকে সুস্থ রাখতে হলে। সুস্থ্ মা-ই শিশুকে সুস্থ্ রাখতে পারেন।

৪ থেকে ৭ মাস বয়সে
শিশুর যা সাধারণত পারা উচিতঃ
● গালে বা মাথায় হাত বোলালে সেদিকে মাথা ঘোরানো।
● উভয় হাত মুখের দিকে আনা।
● পরিচিত গলার আওয়াজ বা শব্দ শুনলে সেদিকে ঘোরা।
● স্তন চোষা এবং হাত দিয়ে ছোঁয়া।
● উবু হয়ে শুলে মাথা ও বুক উপরে তোলা।
● ঝুলছে এমন জিনিষ ধরার চেষ্টা।
● বিভিন্ন জিনিষ ধরা এবং ঝাঁকানো।
● দুদিকে মাথা ও শরীর ফেরা।
● সাহায্য নিয়ে বসা।
● হাত ও মুখ দিয়ে সব জিনিষ যাচাই করা।
● শব্দ এবং মুখের ভাব নকল করতে শুরু করা।
● নিজের নাম শুনলে বা পরিচিত মুখ দেখলে প্রতিক্রিয়া হওয়া।
শিশুর জন্য সাধারণত করণীয়ঃ
● দিনে রাত্রে, চাইলেই বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধ খাওয়ানো চালু রাখুন, তার সাথে অন্য খাবারও দিতে শুরু করুন(৬থেকে ৮ মাস বয়স পর্যন্ত দিনে দুবার, ৮ থেকে ১২ মvস পর্যন্ত দিনে তিন থেকে চারবার)।
● ছয় মাস বয়সের আগে শিশুকে বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধের পাশাপাশি অন্য কোন ধরনের পানি বা পানীয় দ্রব্য পান করানোর দরকার নেই।
● বাচ্চাকে একটা পরিস্কার, নিরাপদ সমতলে রাখুন, যাতে মুক্তভাবে নড়াচড়া করতে পারে এবং জিনিষপত্র ধরতে পারে
● বাচ্চাকে তুলে ধরুন এমনভাবে, যেন সে আশপাশে কী হচ্ছে দেখতে পায়
● হাসিমুখে বাচ্চার সাথে ভাবের আদান প্রদান করুন।
● যতবার সম্ভব শিশুর সাথে কথা বলুন, পড়ুন বা গান শোনান
যে সব সংকেত লক্ষ্য রাখতে হবেঃ
● আড়ষ্টতা বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নড়াচড়ায় অসুবিধা।
● অনবরত মাথানাড়া (এটা কানে সংক্রমন থেকেও হোতে পারে, চিকিৎসা না হলে বধিরতা হতে পারে)।
● শব্দে, পরিচিত মুখ দেখে বা স্তন দেখে কোন প্রতিক্রিয়া না হওয়া বা অল্প হওয়া।
● স্তন বা অন্য খাবার ফিরিয়ে দেওয়া।

পিতা-মাতা ও যত্নকারীদের প্রয়োজনীয় পরিমাপ-ফলক জানা দরকার, যা জানাবে শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক বা মানসিক বিকাশ হচ্ছে কীনা। শিশুর কোন বয়সে কোন খাবার বেশি দরকার তা জানাও খুব জরুরি। ওদের এটাও জানা দরকার যে, কখন সাহায্য চাইতে হবে এবং কী করে শারীরিক বা মানসিকভাবে অসমর্থ শিশুর জন্য যত্ন ও ভালবাসার পরিবেশ তৈরি করা যাবে। এই সবকিছুর সম্মিলিত প্রচেষ্টাই একটি শিশুকে সুস্থ্ রাখতে পারে।


প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। মনের খবরের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই মনের খবরে প্রকাশিত কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না কর্তৃপক্ষ।

প্রফেসর ডা. নাহিদ মাহজাবিন মোরশেদ
চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট সাইকিয়াট্রিস্ট। অধ্যাপক, মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের সাথেই থাকুন

87,455FansLike
55FollowersFollow
62FollowersFollow
250SubscribersSubscribe

Most Popular

ধর্ম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের যোগসূত্র

অনেকেই মনে করেন ধর্মীয় বিধি বিধান এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মাঝে একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং বিশেষ করে যারা ধর্মীয় জীবন যাপন করেন তারা উন্নত...

আমাকে তোমার মনের কথা বলতে পারো

পরিস্থিতি বুঝে সঠিক কাজটি করা এবং যথাযথ কথা বলা একজন ভাল বন্ধু বা সঙ্গীর লক্ষণ। কাছের মানুষের বিপদে আমরা কোনভাবেই স্থির থাকতে পারিনা। একজন সহানুভূতিশীল...

হাইপোগোনাডিজম: পুরুষের ক্লান্তি-অবসন্নতা-বিষণ্ণতার কারণ

আপনি কি ক্লান্ত? অবসন্ন? বিষণ্ন? যৌন জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন? এর মূলে থাকতে পারে রক্তে টেসটোসটেরন হরমোনের স্বল্পমাত্রা বা হাইপোগোনাডিজম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে,...

উদ্বেগ কিংবা আতঙ্কে হৃদস্পন্দন কমাতে সহায়ক পরামর্শ

মানসিক চাপ, অস্বস্তিতে কমবেশি সবাই ভোগেন। তবে তা অসুস্থতার পর্যায়ে পৌঁছালে প্রভাবিত হয় দৈনন্দিন জীবন। প্রচণ্ড ভয়, দুশ্চিন্তা থেকে শুরু করে বুক দপদপানি, হৃদস্পন্দনের গতি...

প্রিন্ট পিডিএফ পেতে - ক্লিক করুন