মানসিক স্বাস্থ্যের সবকিছু ENGLISH

Home মানসিক স্বাস্থ্য প্রসূতি মায়ের মানসিক সুস্থতায় পরিবারের ভূমিকা

প্রসূতি মায়ের মানসিক সুস্থতায় পরিবারের ভূমিকা

সন্তান জন্মানোর সময়েই হোক অথবা তার আগে ও পরে একজন মায়ের যদি কোনওরকম মানসিক সমস্যা দেখা দেয় তাহলে তা নিরাময়ের জন্য পরিবারের ভূমিকাই হয় অন্যতম মুখ্য। এই সময়ে শারীরিক বা মানসিক— দুই দিক থেকেই মা ও শিশুকে সুস্থ রাখার জন্য পরিবারের সাহায্য একান্ত জরুরি।

  • অনেক সময়েই দেখা যায় যে, মানসিক অসুস্থতার কথা জানার পরে সদ্য মা হওয়া একজন মহিলাকে তাঁর স্বামী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা কোনওরকম সাহায্য করেন না। এর জন্য দায়ি মানুষের অজ্ঞতা। এই সময়ে একটি পরিবারের উচিত রোগীর অসুস্থতা বোঝার জন্য একজন সাইকিয়াত্রিস্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে  যোগাযোগ করা এবং তাঁকে মানসিক ভাবে সুস্থ করে তোলার জন্য কীভাবে সাহায্য করা যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা।
  • পারিবারিক কলহ-বিবাদ (domestic violence) কখনওই এই সমস্যার হতে পারে না।
  • যদি একজন মা তাঁর সদ্যোজাত সন্তানের প্রতি কোনওরকম টান অনুভব না করে তাহলে তাঁকে সে বিষয়ে জোর করা ঠিক নয়। এর জন্য তাঁকে আরও সময় দেও তাহলে তাঁকে সে বিষয়ে জোর করা ঠিক নয়। এর জন্য তাঁকে আরও সময় দেওয়া জরুরি।
  • এই অবস্থায় একজন মায়ের মানসিক টানাপোড়েনকে উপলব্ধি করে পরিবারের লোকজনদের তাঁর পাশে থাকতে হবে।
  • পরিকল্পনামাফিক মাকে এমনভাবে ওষুধ খাওয়াতে হবে যাতে বাচ্চা মায়ের বুকের দুধ খেতে পারে।
  • এহেন পরিকল্পনাটি বাচ্চার দুধ খাওয়া এবং তা পরিপাকে সাহায্য করছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে।
  • পোস্ট-পার্টাম বা প্রসব-পরবর্তী পর্যায়ের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যাগুলির বিষয়ে একজন মা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের শিক্ষিত ও সচেতন হয়ে উঠতে হবে।
  • ডাক্তারদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রেখে নিজেদের প্রশ্ন ও সংশয়গুলির অবসান করতে হবে।
  • বাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন রোগীর অসুখের লক্ষণগুলিকে ভালভাবে নজরে রাখতে হবে এবং বিশেষজ্ঞদের তা জানাতে হবে।
  • পরবর্তী সন্তানের পরিকল্পনা থাকলে তা নিয়ে সাইকিয়াত্রিস্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং গায়নোকলজিস্ট বা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।
  • এই ধরনের সমস্যায় কোনও কোনও ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, একজন মা তাঁর বাচ্চাকে দেখলেই সাংঘাতিক রেগে যাচ্ছে। এই অবস্থায় মা এবং সন্তানের সুরক্ষার জন্য একজন সাইকিয়াত্রিস্টের সঙ্গে অবশ্যই আলোচনা করা জরুরি।

কোনও পরিবারের মধ্যে এহেন সমস্যা দেখা দিলে প্রত্যেকেরই নিজেদের মানসিক টানাপোড়েনগুলিকে খুব ভালভাবে উপলব্ধি করা প্রয়োজন। তা না হলে সদ্যোজাত একটি শিশু এবং তার মা, যিনি একটি মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত, তাদের পরিচর্যা করা সম্ভবপর হয় না। এই ক্ষেত্রে একজন সাইকিয়াত্রিস্ট তাঁর সাহায্যের হাত বাড়িয়ে একটি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারেন। এছাড়াও পরিবারের লোকজন তাদের নিজেদের চিন্তাভাবনাগুলির যথার্থতা বিচারের জন্য একজন কাউন্সেলরের কাছে গিয়ে কাউন্সেলিং করিয়ে ইতিবাচক ফল পেতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের সাথেই থাকুন

87,455FansLike
55FollowersFollow
62FollowersFollow
250SubscribersSubscribe

Most Popular

দাম্পত্য সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ যৌনতা

সেদিন নীলা চুমু খাওয়ার পরে বাথরুমে ঢুকে ভক ভক করে বমি করেছিল। আয়নায় নিজেকে দেখে তখন ভীষণরকম অসহায় লেগেছিল তার। নিজের অসহায়তার কথা জানিয়ে...

দুশ্চিন্তা: সময় ও শ্রমের অপচয়

দুশ্চিন্তা এমন এক নিরর্থক ও উদ্দেশ্যহীন বিষয় যা মানুষকে শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক দিয়েই পর্যদুস্ত করে তোলে। দুশ্চিন্তা মানুষের মধ্যে আরো বেশি কর্মঠ...

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব

ফেসবুক,টুইটার,ইনস্টাগ্রাম এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সব বয়সের মানুষের মাঝেই এখন বেশ জনপ্রিয়। অন্যান্য বয়সের সাথে পাল্লা দিয়ে শিশুদের মাঝেও এখন এসবের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। স্ন্যাপ...

কোভিড-১৯: একাকীত্ব মানুষকে উচ্চতর মানসিক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে কী?

কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষিত থাকার অন্যতম উপায় হিসেবে ঘর থেকে না বের হতে এবং বের হলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করতে বলা হয়েছে। এসব...

প্রিন্ট পিডিএফ পেতে - ক্লিক করুন