মানসিক স্বাস্থ্যের সবকিছু

Home মানসিক স্বাস্থ্য হাইপোগোনাডিজম: পুরুষের ক্লান্তি-অবসন্নতা-বিষণ্ণতার কারণ

হাইপোগোনাডিজম: পুরুষের ক্লান্তি-অবসন্নতা-বিষণ্ণতার কারণ

আপনি কি ক্লান্ত? অবসন্ন? বিষণ্ন? যৌন জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন? এর মূলে থাকতে পারে রক্তে টেসটোসটেরন হরমোনের স্বল্পমাত্রা বা হাইপোগোনাডিজম।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ২০১২ সালে শুধু আমেরিকাতেই ৪.৫ মিলিয়ন পুরুষের রক্তে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কম টেসটোসটেরন পাওয়া গেছে।
টেসটোসটেরন কী?
টেসটোসটেরন পুরুষের বৈশিষ্ট্য নির্ধারক হিসেবে পরিচিত হরমোন।
টেসটোসটেরন নিয়ন্ত্রণ করে পুরুষের যৌনানুভূতি, পেশীর গঠন, হাড়ের গঠন এবং শক্তি। বালকের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের চাবিকাঠি হলো টেসটোসটেরন।
কিশোর বয়স থেকে যৌবনে পদার্পণের মনোদৈহিক পরিবর্তনে টেসটোসটেরন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে টেসটোসটেরন মাত্রার কেমন হয়?
টেসটোসটেরন বয়ঃসন্ধি থেকে যৌবনে বাড়তে থাকে। ৩০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতি বছর টেসটোসটেরন মাত্রা ১ শতাংশ হারে কমতে থাকে। তবে এটা জানা জরুরি, টেসটোসটেরন মাত্রা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে গেলে আসলেই সেটা ‘বয়সের দোষ’ নাকি হাইপোগোনডিজম রোগ।
গোনাড মানে প্রাইমারি সেক্স অর্গান, পুরুষের গোনাড হল শুক্রাশয় বা টেস্টিস, নারীদের গোনাডের নাম ডিম্বাশয় বা ওভারি। যখন গোনাডের কর্মক্ষমতা কমে যায়, তখন তাকে হাইপোগোনাডিজম বলে। এটা দুই প্রকার।
প্রাইমারি: প্রত্যক্ষভাবে টেস্টিস অথবা ওভারির সমস্যার জন্য।
সেকেন্ডারি: হাইপোথ্যালামাস বা পিটুইটারি গ্লান্ডের সমস্যার জন্য। যা পরোক্ষভাবে শুক্রাশয়/ডিম্বাশয়কে প্রভাবিত করে।
রক্তে টেসটোসটেরনর’র স্বাভাবিক মাত্রা
দুই বছর বয়সী শিশু আর ২০ বছর বয়সী তরুণের টেসটোসটেরন যেমন এক নয়, একইভাবে প্রৌঢ় আর বৃদ্ধের টেসটোসটেরনের মাত্রাও এক নয়। আবার একই বয়সী খেলোয়াড় আর সমবয়সী অফিসকর্মী পুরুষের টেসটোসটেরনের মাত্রা এক নাও হতে পারে।
রক্তে সিরাম টেসটোসটেরনের মাত্রা ৩০০ ন্যানো গ্রাম/ডেসিলিটারের কম হলে -স্বল্পমাত্রার টেসটোসটেরন বা কম টেসটোসটেরন বলা হয়।
রক্তে স্বল্প মাত্রার টেসটোসটেনের লক্ষণ
টেসটোসটেরন লক্ষণগুলি নির্ভর করে রক্তে কতটা কম টেসটোসটেরন আছে তার মাত্রার উপর। তবে সব লক্ষণ একজন পুরুষ একই সঙ্গে অনুভব করবেন না। বয়স ও শারীরিক অবস্থা ভেদে টেসটোসটেরন কমের লক্ষণেও ভিন্নতা দেখা দেয়।
•    ক্লান্তি।
•    দুশ্চিন্তা।
•    দুর্বলতা।
•    বিষণ্নতা।
•    ত্বকে বলি রেখা।
•    নিদ্রাভ্যাস পরির্বতন।
•    দেহে চর্বি জমা।
•    পেশী ক্ষয়ে যাওয়া।
•    মুডের পরির্বতন (হঠাৎ হঠাৎ রেগে যাওয়া, খিটখিটে ভাব, বিরক্তি, অধৈর্য ইত্যাদি)।
•    অমনোযোগী।
•    মনোঃসংযোগে অক্ষমতা।
•    যৌন আগ্রহ ও ক্ষমতা কমে যাওয়া।
•    পুরুষাঙ্গের শিথিলতা।
•    দাড়ি-গোঁফ বা দেহে লোমের পরিমাণ কমে যাওয়া।
•    শুক্রাশয়, পুরুষাঙ্গ, প্রোস্টেট ইত্যাদি ছোট হয়ে যাওয়া।
•    শুক্রাণুর সংখ্যা বা র্স্পাম কাউন্ট হ্রাস।
•    শুক্রাশয়ের শক্তভাব পরিবর্তন হয়ে স্থিতিস্থাপকতা কমে যাওয়া।
•    কোনো ইনফেকশন না থাকলেও ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া (বিশেষ করে রাতে)।
•    পুরুষ স্তনের আকার বৃদ্ধি পাওয়া।
•    বন্ধ্যাত্ব।
•    কগনেটিভ সমস্যা যেমন দ্রুত ভুলে যাওয়া, নতুন কিছু মনে রাখা বা পুরনো কথা মনে না করতে পারার সমস্যা বেড়ে যাওয়া।
•    শারীরিক সুস্থতা, গুণগত মান কমে যাওয়া।
হট ফ্লাশ: টেসটোসটেরন বেশি কমে গেলে মেনোপোজের সময় মহিলারা যেমন হট ফ্লাশ অনুভব করেন, পুরুষরাও তেমনটি বোধ করবেন। মুখ, কান দিয়ে গরম ভাব বের হওয়া, মুখ লাল হয়ে যাওয়া, ঘাম হওয়া (যা মুখে বুকে বা ঘাড়ের পিছ থেকে শুরু হয়ে ২ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত থাকতে পারে)। রোগীর মনে হতে পারে, তিনি অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন। মাথার তালু জ্বলতে থাকা, মুখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিলে ভালো লাগা ইত্যাদি হট ফ্লাশের লক্ষণ।
•    সর্বাঙ্গে ব্যথা।
•    ভুড়ি বেড়ে যাওয়া।
•    রক্তে চর্বি/কোলেস্টেরল বৃদ্ধি।
•    হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া বা অস্টিওপোরাসিস, দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে হাড় ক্ষয়ে উচ্চতা হ্রাস পেতে পারে।
•    শুকনো ত্বক।
•    নখ ভঙ্গুর হওয়া।
•    বয়ঃসন্ধি দেরিতে শুরু হওয়া (অনেকের বয়ঃসন্ধি ঠিক সময়ে হয় না, পরবর্তী জীবনে টেসটোসটেরন কমে যায়)।
•    ঘুমের মধ্যে পুরুষাঙ্গের উত্থান ও স্বপ্নদোষ কমে যাওয়া।
•    আত্মবিশ্বাস, ইতিবাচক মানসিকতা কমে যাওয়া ইত্যাদি।
প্রাথমিক অবস্থায় যেকোনো একটি বা দুটি লক্ষণ প্রকাশ পায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত ব্যক্তি এগুলোকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার মতো কোনো কারণ বলেই মনে করেন না। পরিণতিতে এ অসচেতনতা রোগীর দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানে ক্ষতিকারক প্রভাব বিস্তার করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের সাথেই থাকুন

87,455FansLike
55FollowersFollow
62FollowersFollow
250SubscribersSubscribe

Most Popular

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর ইচ্ছে পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (অটিস্টিটক) কিশোরী রায়ার ইচ্ছে পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার ইচ্ছে প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া ভিডিও...

বয়সের ভার বাড়লে কি মনের ভারও বাড়ে?

কারও পক্ষে জীবনের সকল সময় সুখে থাকা সম্ভব নয়। বিভিন্ন কারণে মানসিক অসন্তোষ সব মানুষের জীবনেই একটি অতি পরিচিত অভিজ্ঞতা। তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা...

মায়ের অবসাদ যেভাবে শিশুর ক্ষতি করে যেভাবে

গর্ভকালীন কিংবা শিশুর জন্মের পর এক বছর পর্যন্ত মায়ের মানসিক অবস্থা শিশুর বিকাশে ভূমিকা রাখে বলে জেএএমএ পেডিয়াট্রিক্স জার্নালে প্রকাশিত নতুন একটি গবেষণায় জানানো...

ট্রিকোটিলোম্যানিয়া: মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলার রোগ

রাগে ফেটে পড়লে আমরা অনেক সময়ে মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলার কথা বলি। অনেককে এসময় আঙ্গুল দিয়ে মাথার চুল পেঁচাতে পেঁচাতে টেনে তুলতেও দেখা যায়। গবেষণায়...

প্রিন্ট পিডিএফ পেতে - ক্লিক করুন