মানসিক স্বাস্থ্যের সবকিছু ENGLISH

Home মানসিক স্বাস্থ্য ফ্রয়েড নিয়ে অল্প স্বল্প

ফ্রয়েড নিয়ে অল্প স্বল্প

আধুনিক যুগে যে কয়েকজন মনীষী সমগ্র বিশ্বের মানুষের চিন্তা ভাবনা, দর্শন, সমাজ, সাহিত্য, শিল্পকলা, শিক্ষাব্যাবস্থা, রাষ্ট্রব্যবস্থা সহ প্রাত্যহিক জীবনের প্রায সবকিছুতেই প্রভাব ফেলতে সক্ষম হযেছেন, অস্ট্রিয়ার স্নায়ুবিদ, মনোরোগবিদ এবং মনস্তাত্ত্বিক সিগমুন্ড ফ্রয়েড(১৮৬৫-১৯৩৯) তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তিনি মনোসমীক্ষন (সাইকোএনালাইসিস) পদ্ধতির জনক। যেমন বহুল আলোচিত/প্রশংসিত, তেমনি বহুল সমালোচিতও। তবে কোনভাবেই উপেক্ষার যোগ্য নন।

Primitive lust-01-23-02-15

সিগমুন্ড ফ্রয়েডের আগে শারীরিক অসুখ ছাড়াও মানুষের মনের অসুখ হতে পারে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা তা খুব বেশি ভাবতে পারেনি। হিস্টেরিয়া রোগ (বর্তমানে নাম কনভারসন ডিসঅর্ডার) লাতিন হিস্টেরাস শব্দ থেকে এসেছে। হিস্টেরাস শব্দের অর্থ জরায়ু। মেয়েদের জরায়ু থাকে বলে, তখন মনে করা হতো হিস্টেরিয়া কেবল মেয়েদের রোগ। পরবর্তিতে প্রমাণিত হলো এ রোগ পুরুষেরও হতে পারে। ফ্রয়েড সংবেশন(হিপনোটিজম) পদ্ধতি প্রয়োগ করে মানুষের মনের গভীরে, গোপন কোনে, লুকিয়ে থাকা কথাগুলো/কুটেষাগুলো বের করে আনার কৌশল বের করেছিলেন। যা সাইকোএনালাইসিস নামে পরিচিত। তিনি দেখেছিলেন মনের গভীর কোনে লুকানো কুটেষা/চাপা ক্ষোভ বা যন্ত্রণা, মন থেকে বের হয়ে গেলে রোগি জাদুর মত সুস্থ্য হয়ে উঠছে। মিলছে মুক্তির আনন্দ।

মনকে তিনি প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করেছিলেন, সচেতন(কনসাস) এবং অচেতন/অবচেতন(আনকনসাস)। দেখতে হিমশৈলীর মত, যার উপরিভাগ সচেতন অংশ মাত্র ১ এবং বাকি ১১ ভাগই গভীরে অচেতন মন। অচেতন মনের একটা ছোট অংশ আবার অধিচেতন (প্রিকনসাস); যা সহসাই সচেতন মনে ধরা দেয়না। বরং খুব করে মনে করার চেষ্টা করলে তবেই ধরা দিতে পারে। সচেতন মন- যা সহসাই ধরা দেয়, আমাদের সচেতন অবস্থার কর্মকান্ডগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। অচেতন মন ধরা দেয় স্বপ্নের মধ্যে, বেফাঁস মন্তব্যের মধ্যে, সংবেশিত অবস্থার (হিপনোটাইজড অবস্থার) মধ্যে এবং ছদ্মবেশে আমাদের সচেতন সব কাজের মধ্যে। ফ্রয়েড মনে করেন, অচেতন মনই পরোক্ষভাবে সচেতন মনের নিয়ন্ত্রক। আর এই অচেতন মনের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে কাম/হিংসা/হিংস্রতা/আত্মবিনাশ অনুভূতি। এর মধ্যে কামই মূখ্য। তবে তা সরাসরি কাম আকারে প্রকাশিত নাও হতে পারে। হতে পারে পুলক অনুভূতির সন্ধান, আনন্দের সন্ধান করা। সেই আদি কামের পরোক্ষ/ছদ্মবেশী রুপ; যা প্লেজার প্রিন্সিপাল নামে পরিচিত। তিনি বলেন, আমাদের সচেতন মনের যাবতীয় কার্যকলাপ মূলত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে (ছদ্মবেশে) অচেতন মনে বন্দী করা কাম দ্বারা তাড়িত।

মানুষ সভ্য হওয়ার পথে সামাজিক চাপে শৈশব থেকেই সবচেয়ে বেশি দমন করে কামকে অর্থাৎ সচেতন মন থেকে অচেতন মনে পাঠায়। যা মরেনা বরং ঘুমিয়ে থাকে এবং সুযোগ পেলেই বিভিন্ন ছদ্মবেশে বের হয়ে আসার জন্য ছটফট করে। ফ্রয়েডের মতে, মনের অচেতন অংশ জুড়ে থাকে অদ্ (ইদ) এবং সচেতন অংশ জুড়ে থাকে বাস্তবতা বোধ (ইগো) এবং নৈতিকতা বোধ (সুপার ইগো)। বৃহৎ অচেতন ইদ অংশে থাকে আদিম কামনা, বাসনা, হিংস্রতা, জিঘাংসা ইত্যাদি। এই অচেতন অংশের কামনাগুলোকে সচেতন অংশে আসতে ইগো এবং সুপারইগোর বাঁধা পেরোতে হবে; যারা কড়া দ্বাররক্ষীর কাজ করে। সহজে বেরোবার উপায় নাই। হয় ছদ্মবেশে, আনমনে, নতুবা ঘুমের ঘোরে।

লেখক
ডা. কৃষ্ণ রায়
এম ডি (সাইকিয়াট্রি) ফেইজ- এ, রেসিডেন্ট
মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের সাথেই থাকুন

87,455FansLike
55FollowersFollow
62FollowersFollow
250SubscribersSubscribe

Most Popular

আমাকে তোমার মনের কথা বলতে পারো

পরিস্থিতি বুঝে সঠিক কাজটি করা এবং যথাযথ কথা বলা একজন ভাল বন্ধু বা সঙ্গীর লক্ষণ। কাছের মানুষের বিপদে আমরা কোনভাবেই স্থির থাকতে পারিনা। একজন সহানুভূতিশীল...

হাইপোগোনাডিজম: পুরুষের ক্লান্তি-অবসন্নতা-বিষণ্ণতার কারণ

আপনি কি ক্লান্ত? অবসন্ন? বিষণ্ন? যৌন জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন? এর মূলে থাকতে পারে রক্তে টেসটোসটেরন হরমোনের স্বল্পমাত্রা বা হাইপোগোনাডিজম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে,...

উদ্বেগ কিংবা আতঙ্কে হৃদস্পন্দন কমাতে সহায়ক পরামর্শ

মানসিক চাপ, অস্বস্তিতে কমবেশি সবাই ভোগেন। তবে তা অসুস্থতার পর্যায়ে পৌঁছালে প্রভাবিত হয় দৈনন্দিন জীবন। প্রচণ্ড ভয়, দুশ্চিন্তা থেকে শুরু করে বুক দপদপানি, হৃদস্পন্দনের গতি...

বায়ু দূষণ করোনাভাইরাসে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ায়

বিশ্বে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে যত মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন তার ১৫ শতাংশের পেছনে ভূমিকা রেখেছে লম্বা সময় বায়ুদূষণের প্রভাব, এমন দাবি করছেন গবেষকরা। বায়ু দূষণ সম্পর্কিত...

প্রিন্ট পিডিএফ পেতে - ক্লিক করুন