শিশুর মানসিক বিকাশে খেলাধুলা

0
123
শিশুদের এক জায়গায় বই নিয়ে বসিয়ে রাখা মুশকিল। শিশুরা দুষ্টুমি করবে, সারা দিন ছুটোছুটি করে মাতিয়ে রাখবে সবাইকে এটাই স্বাভাবিক। লেখা-পড়া করতে বললেই নানা বায়না জুড়ে দেয়। বরং সারাদিন খেলা নিয়ে মেতে থাকতেই পছন্দ বেশিরভাগ শিশুদের।

শিশুকে মনের বিরুদ্ধে জোর করে সারাক্ষণ বই নিয়ে বসিয়ে রাখলেই হবে না। এতে করে শিশুর মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হয় আর পড়াশোনাকে শিশু আরও বেশি অপছন্দ করতে শুরু করে।

গবেষকদের মতে, প্রথম জীবন থেকেই শিশুর শরীরের হয় বৃদ্ধি আর মনের হয় বিকাশ। শরীরের বৃদ্ধি মানে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পরিবর্তন ও আকৃতি বৃদ্ধি পাওয়া। অন্য দিকে মনের বিকাশ মানে শিশুর জ্ঞান, বুদ্ধি, মেধা, আবেগ ও অন্যের সঙ্গে মেলামেশা করার দক্ষতা অর্জন করা।

তবে করোনাকালে খেলাধুলার ক্ষেত্রেও রয়েছে সংক্রমণের ঝুঁকি। তাই আপনার বাচ্চার মেধার ধারণ ক্ষমতা বিবেচনা করে তাকে বিভিন্ন ব্রেইন বুস্টিং ইনডোর খেলার সাথে পরিচিত করান। এরকম শিশু উপযোগী কিছু খেলা সম্পর্কে জানুন এখান থেকে।

১। লুডুঃ
মজার এই খেলার মাধ্যমে আপনার বাচ্চা দ্রুত গুনতে শিখবে। তাকে একটু একটু করে খেলার নিয়ম কানুন গুলো শিখিয়ে দিন।সময় পেলে বাচ্চার সাথে খেলতে বসে যান। এই খেলার মাধ্যমে দূর করতে পারেন বাচ্চার অংক ভীতি।

২। দাবাঃ
বলা হয়ে থাকে দাবা হল বুদ্ধির খেলা। ভেনিজুয়েলার ৪০০০ শিক্ষার্থীর উপর পরীক্ষাকরে দেখা গেছে দাবা খেলে এমন ছেলে এবং মেয়ে উভয়েরই ৪ মাসের মধ্যে আইকিউ স্কোর উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।আপনার সোনামণিকে মেধাবী করে তুলতে চাইলে তাকে খেলার ছলে দাবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। তবে মনে রাখবেন দাবা যেহেতু বড় ছোট উভয়ের খেলা সেহেতু বাচ্চার মাথায় প্রেশার সৃষ্টি করবেন না ভুলেও। সে যাতে পুরো খেলাটা উপভোগ করতে পারে সেটা সবার আগে নিশ্চিত করত হবে। একবার আপনার বাচ্চা মজা পেয়ে গেলে মেধার বিকাশ এবং খেলাধুলা দুইটাই হবে।

৩। গুনতে শেখানোঃ
আপনি নিজের কাজ করতে করতেও বাচ্চাকে শেখাতে পারেন, এমনকি কাগজ কলম বা খেলনা ছাড়াও। খুব সহজ, একটু প্লেটে কয়েকটি মটর দানা, ছোলা বুট বা চকলেট দিয়ে বাচ্চাকে পাশে বসিয়ে তাকে গুনতে শেখান। মাঝে মধ্যে কয়েকটি মটর দানা বাচ্চার মুখে পুরে দিন। দেখবেন আপ[নার বাচ্চা ছোট্ট মুখটাই হাসি ফুটিয়ে পাশে বসে খেলবে আর খেলার ছলে গুনতেও শিখবে।

৪। রঙ তুলি নিয়ে খেলাঃ
বাচ্চারা ঘরের দেয়াল, মেঝেতে আঁকিবুঁকি করে ঘরের চেহারাই পালটে দিচ্ছে? বাধা দেবেন না বরং তাকে আলাদা জায়গা বা খাতা কলম, রঙ পেন্সিল কিনে দিন।আপনার ছোট্ট সোনামণির সুপ্ত মেধা বিকাশ তো বটেই আঁকিবুঁকির মাধ্যমে সে মানসিক ভাবেও অনেক অগ্রগতি অর্জন করবে। তাই বাচ্চার খেলাই তালিকায় রংতুলি রাখতে ভুলবেন না।

৫। কিউবঃ
বেশ কিছু কালারের সমন্বয়ের এর খেলাটি যেমন মজার ঠিক তেমন আপনার বাচ্চাকে বুদ্ধিমান করে তুলবে। কোন রকম ছুটাছুটি করে খেলার বদলে যদি ঘরে সামান্য একটা কিউব দিয়ে আপনার বাচ্চা বুদ্ধিমান হয়ে ওঠে তাহলে ক্ষতি কি।

৬। পাজল গেমঃ
বাচ্চারাও চ্যালেঞ্জ পছন্দ করে, কোন কাজে সফল হতে পারলে ওদেরও মনোবল বাড়ে। ভীষণ মজাদার এই খেলাটি আপনার বাচ্চাকে মনযোগী করে তুলবে। শুধু আপনাকে একটু কষ্ট করে বাচ্চাকে খেলার মজার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে।

৭। সুডোকুঃ
আমেরিকান একদল বিজ্ঞানী সুডোকু খেলাকে ব্রেইনগেম করে আখ্যায়িত করেছেন। সুডোকু শিশুর মেধা বিকাশে ও মস্তিষ্ক বিকাশে ব্যাপক সাহায্য করে। এটা এমন একটি মজার খেলা যেটা আপনার সন্তানের মধ্যে ইউনিটি বা দলগত শক্তি সম্পর্কে জ্ঞান দেয় একই সাথে আপনার বাচ্চাকে মনযোগী ও ঠাণ্ডা মেজাজি হতে উৎসাহী করে তোলে।

৮। ট্রেজার হান্টঃ
আমাদের কাছে ট্রেজার মানেই সোনা দানা আরও কতকিছু কিন্তু আপনার বাচ্চার কাছে সামান্য একটা টেডি বিয়ার, একটা চকলেট অথবা একটা খেলনা বল বিশাল রকমের ট্রেজার। আপনার বাচ্চার বুদ্ধি বিকাশে এই সামান্য খেলনা গুলো কাজে লাগাতে পারেন। একটা টেডি বিয়ার, চকলেট বা খেলার বল নিয়ে কোথাও লুকিয়ে রেখে বাচ্চাকে খুঁজতে দেন পরে যখন সে জিনিসটা খুঁজে পাবে তাকে কমপ্লিমেন্ট দিতে ভুলবেন না। এই খেলাটা আপনার বাচ্চার একাগ্রতা ও মনোযোগ বাড়াবে আর তার কৌতুহল ক্ষমতা ডেভোলপ করবে।

৯। ইনডোর বাস্কেটবলঃ
ইনডোর বাস্কেটবল আরও একটি খেলা যা আপনার বাচ্চার মেধার বিকাশ ঘটাবে। অবসর সময় পরিবারের সদস্যরা মিলেই টিম হয়ে যেতে পারেন খেলার জন্য। খুব ভালো পারিবারিক পরিবেশে আপনার বাচ্চার শারীরিক মানসিক উভয়ের অগ্রগতি সাধন হবে। বাচ্চার সঠিক বুদ্ধির বিকাশ ঘটাতে ইনডোর বাস্কেটবল খেলা লিস্টে রাখুন।

বাচ্চার উপর প্রেশার দেবেন না কোন কিছু শিখতে বা বুঝতে। ওরা ঠিক নিজেদের মতো করে শিখতে থাকবে আর বুদ্ধির বিকাশও হবে। একজন মা বাবা হিসেবে আপনাদের কাজ হবে সঠিক উপায়ে সুন্দর ভাবে বাচ্চার বুদ্ধির বিকাশ ঘটে এরূপ সব কিছুর সাথে তাকে রয়েসয়ে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।

আজকের সুস্থ, সবল ও বুদ্ধিদীপ্ত শিশু আগামী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের কর্ণধার এই শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বুদ্ধির বিকাশে পিতামাতা, পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশুকে নিজের ইচ্ছা, প্রভাব, স্বপ্ন চাপিয়ে দেবেন না। নামীদামি স্কুলে ভর্তি, ক্লাসে ফার্স্ট হওয়া, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বানাতে গিয়ে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক মূল্যবোধ নষ্ট করে শিশুর মানসিক, শারীরিক, বুদ্ধির বিকাশে বাধা সৃষ্টি করবেন না।

মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে চিকিৎসকের সরাসরি পরামর্শ পেতে দেখুন: মনের খবর ব্লগ
করোনায় মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক টেলিসেবা পেতে দেখুন: সার্বক্ষণিক যোগাযোগ
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
করোনায় সচেতনতা বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও বার্তা দেখুন: সুস্থ থাকুন সর্তক থাকুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here