মানসিক স্বাস্থ্যের সবকিছু ENGLISH

Home জীবনাচরণ মন ও ক্রীড়া শরীর চর্চায় হবে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি

শরীর চর্চায় হবে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি

দৈনিক অন্তত ৪৫ মিনিট করে সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচবার শরীরচর্চা মানসিক সমস্যার সমাধানে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে – তবে এর চেয়ে বেশী ব্যায়াম করলে তা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নাও হতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক এক গবেষণা একথা জানিয়েছে।
গবেষণায় একমাস ধরে ১২ লাখ মানুষের দৈনিক শারীরিক কার্যক্রমের তালিকা করেন এবং তাদের মানসিক অবস্থা বর্ণনা করা হয়।গবেষণায় পাওয়া যায়, ব্যায়ামের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা ব্যায়াম না করা ব্যক্তিদের চেয়ে প্রতিমাসে ১.৫টি কম ‘বাজে দিন’এর অভিজ্ঞতা করে থাকেন। সবচেয়ে বেশী ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হয় যারা দলগত খেলা, সাইক্লিং এবং ফুসফুস ও হার্টের ব্যায়াম করে থাকেন।
সব বয়স ও লিঙ্গের মানুষই শরীরচর্চার ফলে মানসিকভাবে ভাল বোধ করেন। ঘরের কাজ কর ও শিশুদের দেখাশোনা করাও এই তালিকার মধ্যে পরে।
ল্যান্সেট সাইকিয়াট্রি জার্নালে প্রকাশিত হওয়া এই গবষেণা এখন পর্যন্ত এই ধরণের যে কোনো গবষেণার মধ্যে সবচেয়ে বড় আকারের। তবে শারীরিক কার্যক্রম ব্যায়ামের কারণেই যে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয় এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর শরীরচর্চার প্রভাব বিষয়ক পূর্ববর্তী গবেষণায় মিশ্র ফল পাওয়া গিয়েছে। কিছু গবেষণা অনুযায়ী, কম পরিমাণে শরীরচর্চা করলে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হয় এবং মানসিক অবস্থা ভালো না থাকার কারণেও শরীরচর্চার আগ্রহ কমে যায়।
শরীরচর্চা করলে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ডায়বেটিসের সম্ভাবনা কমে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে আগেই। এই গবেষণায় অংশ নেয়া প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা জানান, প্রতিমাসে গড়ে ৩.৪ দিন তারা মানসিকভাবে অপ্রসন্ন থাকেন। আর যারা শরীরচর্চা করেন তারা গড়ে প্রতিমাসে দুইদিন মানসিক বিষন্নতায় ভোগেন।
বিষণ্ণতার কারণে আগে যাদের চিকিৎসা নিতে হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে শরীরচর্চা আরো বেশী ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিষন্নতায় ভোগা ব্যক্তিদের মধ্যে যারা ব্যায়াম করেন বা শারীরিকভাবে সক্রিয়, তারা গড়ে প্রতিমাসে ৭ দিন মানসিকভাবে অপ্রসন্ন থাকেন যেখানে শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিরা মাসে ১১ দিন অবসন্নতায়ণ্ণতায় ভোগেন।
কতক্ষণের জন্য শারীরিকভাবে সক্রিয় ছিলেন এবং কতদিন পরপর শরীরচর্চা করেন সেটিও গুরুত্বপূর্ন। প্রতি দুইদিনে ৩০ থেকে ৬০ মিনিট শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকাকে সবচেয়ে বেশী কার্যকর বলে মনে করা হয়। তবে অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে হিতে বিপরীতও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকয়িাট্রির সহযোগী অধ্যাপক অ্যাডাম চেকরুড বলেন, “এমন একটা ধারণা ছিল যে যত বেশী ব্যায়াম করা হবে ততই মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে। তবে আমাদের গবেষণা বলে বিষয়টি এমনও নয়।”
তিনি জানান মাসে ২৩ বারের বেশী ব্যায়াম করলে বা ৯০ মিনিটের চেয়ে বেশী সময় ধরে ব্যায়াম করলে মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা খারাপের দিকেও যেতে পারে। দলগত খেলাধূলার ইতিবাচক দিক হলো তা ব্যক্তিতে সামাজিকভাবে মানুষের সাথে সম্পৃক্ত রেখে একাকিত্ব বোধ করার সম্ভাবনা কমায়। যার ফলে মানুষের মধ্যে সহনশীলতা তৈরী হয় ও অবসন্নতা দূর হয়।
 
সূত্র: বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের সাথেই থাকুন

87,455FansLike
55FollowersFollow
62FollowersFollow
250SubscribersSubscribe

Most Popular

দাম্পত্য সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ যৌনতা

সেদিন নীলা চুমু খাওয়ার পরে বাথরুমে ঢুকে ভক ভক করে বমি করেছিল। আয়নায় নিজেকে দেখে তখন ভীষণরকম অসহায় লেগেছিল তার। নিজের অসহায়তার কথা জানিয়ে...

দুশ্চিন্তা: সময় ও শ্রমের অপচয়

দুশ্চিন্তা এমন এক নিরর্থক ও উদ্দেশ্যহীন বিষয় যা মানুষকে শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক দিয়েই পর্যদুস্ত করে তোলে। দুশ্চিন্তা মানুষের মধ্যে আরো বেশি কর্মঠ...

শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব

ফেসবুক,টুইটার,ইনস্টাগ্রাম এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সব বয়সের মানুষের মাঝেই এখন বেশ জনপ্রিয়। অন্যান্য বয়সের সাথে পাল্লা দিয়ে শিশুদের মাঝেও এখন এসবের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। স্ন্যাপ...

কোভিড-১৯: একাকীত্ব মানুষকে উচ্চতর মানসিক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে কী?

কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষিত থাকার অন্যতম উপায় হিসেবে ঘর থেকে না বের হতে এবং বের হলেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করতে বলা হয়েছে। এসব...

প্রিন্ট পিডিএফ পেতে - ক্লিক করুন