মানসিক স্বাস্থ্যের সবকিছু

Home জীবনাচরণ মন খারাপ হলে কি করবেন?

মন খারাপ হলে কি করবেন?

সব পরিস্থিতি আপনার অনুকূলে থাকবে এমনটা আশা করা কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কিন্তু এমন মন খারাপ করা প্রতিকূল পরিবেশে, যখন আপনার আবেগ আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, যখন আপনি অস্বস্তিকর আবেগেময় পরিস্থিতিত্র সম্মুখীন, কিভাবে সেই আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন? আসুন কিছু মানসিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করা যাক যা আপনার মন ভাল করে দিতে সহায়তা করবে।
সব থেকে বেশী যে মানসিক সমস্যার সম্মুখীন একজন ব্যক্তি হয়ে থাকেন সেটি হল মন খারাপ হওয়া। এই মানসিক অবস্থা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মাঝে ভিন্ন ভিন্ন কারণে হয়। এই মন খারাপ থেকে অনেকের মাঝে উদ্বিগ্নতা, বিষণ্ণতা, ক্রোধ, ভয়, ইত্যাদি সমস্যারও উদ্রেক হয়। অনেক সময় যা ব্যক্তিকে অনেক লজ্জা জনক পরিস্থিতে ফেলে দেয়। তাই এর সমাধান করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
যে কোন মানসিক অবস্থা, অর্থাৎ আবেগ অস্বাভাবিক কোন কিছু নয়। এগুলো মানুষের মানসিক স্থিতির সহজ স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ। প্রকৃতপক্ষে সমস্যা মূলত আমাদের আবেগ নিয়ে নয়, সমস্যা আমাদের চিন্তা ভাবনা বা মন মানসিকতা নিয়ে সৃষ্টি হয়। আমাদের মন বা মানসিকতাই নির্ধারণ করে কোন ধরণের আবেগ নেতিবাচক বা আমাদের জন্য খারাপ।

এর ফলেই আমরা খুব ছোট কারণে মন খারাপ থেকে এক সময় দুশ্চিন্তা এবং দুশ্চিন্তা থেকে বিষণ্ণতার শিকার হই।  আমাদের এমন মনে হয় যে আমরা হয়তো কখনোই এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাবনা।

এভাবে আমাদের আবেগ আমাদের শত্রু হয়ে ওঠে। তখন আমাদের এই মন খারাপ হওয়া নিয়েই আমাদের মন খারাপ হয়, দুশ্চিন্তা হওয়া নিয়ে আরও দুশ্চিন্তা হয়। যখনই আমরা আমাদের আবেগ থেকে পালানোর চেষ্টা করি, আমরা আরও বেশী সমস্যার সম্মুখীন হই। এর প্রভাব আমাদের উপর আরও বেড়ে যায়। আমরা যেন এক নিজের হাতে তৈরি করা ফাঁদে পড়ে যাই।
যত সমস্যাই হোক, আমাদেরকে সব পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে শিখতে হবে। নিজের আবেগ থেকে পালিয়ে কখনোই মানসিক সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়না। আপনাকে অস্বস্তিতে ফেলে এমন পরিস্থিতিতে আপনি একটি সময় সীমা নির্ধারণ করতে পারেন যে সময়টুকু আপনি সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করা বা সেই অবস্থায় নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবেন। ধীরে ধীরে এই সময় সীমা বাড়ান। আপনার মানসিক উন্নতিও একই সাথে ত্বরান্বিত হবে। আপনি নিজের কাজকে নিজেই চ্যালেঞ্জ করুন। নিজের ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগান। কোন অবস্থাতেই অস্বস্তিকর অনুভব যেন না করেন সেই প্রয়াস করুন।  দেখবেন ধীরে ধীরে আপনার অস্বস্তিকর অবস্থা মোকাবেলায় আপনার পারদর্শিতা বাড়বে। মন খারাপের পরিমাণ কমবে, সাথে সাথে দুশ্চিন্তার মাত্রা কমবে।
কিন্তু অবশ্যই সতর্ক থাকুন। কখনোই নিজের আবেগ থেকে পালিয়ে বেড়ানোর চেষ্টা করবেন না। তাহলে পুনরায় আবার নিজেই নিজের জন্য ফাঁদ তৈরি করবেন। সমাধান আপনার আবেগ পরিবর্তনের মাঝে নিহিত নেই। বরং তাদেরকে স্বীকার করে নেওয়ার মাঝে রয়েছে এর সমাধান। আপনি যত বেশী এসব অস্বস্তিকর অবস্থায় ইতিবাচক মানসিকতার পরিচয় দেবেন, ততোই আপনি সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে থাকবেন। সুখ দুঃখ মিলিয়েই জীবন। দুশ্চিন্তা না করে সব কিছু উপভোগ করুন। মন অবশ্যই ভাল থাকবে।
সূত্র: সাইকোলজি টু’ডে- https://www.psychologytoday.com/us/blog/get-out-your-mind/201910/how-stop-feeling-bad?collection=1139681
অনুবাদ করেছেন: প্রত্যাশা বিশ্বাস প্রজ্ঞা
মানিসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে চিকিৎসকের সরাসরি পরামর্শ পেতে দেখুন: মনের খবর ব্লগ
করোনায় মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক টেলিসেবা পেতে দেখুন: সার্বক্ষণিক যোগাযোগ
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
করোনায় সচেতনতা বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও বার্তা দেখুন: সুস্থ থাকন সর্তক থাকুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের সাথেই থাকুন

87,455FansLike
55FollowersFollow
62FollowersFollow
250SubscribersSubscribe

Most Popular

তরুণদের মাদকাসক্তির পেছনেও রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব: গবেষণা

ভালো দিকের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন খারাপ প্রভাবও  উঠে এসেছে বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন গবেষণায়। তবে এবার একটি গবেষণা বলছে তরুণদের মাদকাসক্তির পেছনেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের...

সেক্স্যুয়াল মিথ ও যৌন স্বাস্থ্য

ভীমরতি শব্দের আভিধানিক অর্থ ভীষনরাত্রি । ‘ভীম’ মানে ভীষন আর ‘রতি’ মানে রাত্রি। ভারতীয় পুরাণ মতে বয়স সাতাত্তর হলে সাত মাসের সপ্তম রাত্রির নাম...

করোনা’কে অগ্রাহ্য বা অতি আতঙ্কে বিষণ্ণতা- উভয়ই ক্ষতিকর

অতি মাত্রার আতঙ্ক অনেক সময় মানুষকে বিবেক শূন্য করে দিতে পারে। তখন অনেকে আতঙ্ককে অগ্রাহ্য করে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়, আবার...

মানসিক স্বাস্থ্য ও মানসিক রোগের চিকিৎসা

সবার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিপাদ্যে এবছর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালিত হয়েছে। প্রতিপাদ্যে সবার জন্য মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বলা হয়েছে; মানসিক রোগের কথা বলা...

প্রিন্ট পিডিএফ পেতে - ক্লিক করুন