মানসিক স্বাস্থ্যের সবকিছু

Home জীবনাচরণ বিচ্ছেদের কষ্ট দূর করতে সহায়ক টিপস

বিচ্ছেদের কষ্ট দূর করতে সহায়ক টিপস

সভ্যতার বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সম্পর্কগুলো ক্রমেই জটিল হয়ে যাচ্ছে। ভালোবাসার সম্পর্কে যখন বন্ধনগুলো আলগা হয়ে যায়, তখন বিচ্ছেদের মতো ঘটনা ঘটে। সেটা যেমন দীর্ঘমেয়াদি ভালোবাসার সম্পর্কের ক্ষেত্রে হয়, তেমনি হয় বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও। দু’জন ব্যক্তির মধ্যে বিশ্বাসের অভাব, শ্রদ্ধাবোধের অভাব, স্বচ্ছতার অভাব, অহংবোধ, অতিরিক্ত রাগ, মতভেদ, ভুল বোঝাবুঝি, ভিন্ন মানসিকতা, বোঝাপড়ার অভাব ইত্যাদি দুটো মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক ভাঙার পেছনে ভূমিকা রাখে।
যেকোনো বিচ্ছেদই বেদনাদায়ক। কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বিচ্ছেদের ফলে যেসব চাপ তৈরি হয়, তা মোকাবেলা করা সম্ভব। এগুলো হলো :
১. যেকোনো সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর অত্যন্ত কষ্ট হয়। তাই সেই কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নিজেকে ভালোলাগার কাজে ব্যস্ত রাখুন। কোনো ভালো লাগার জায়গা থেকে কিছুদিনের জন্য ঘুরে আসতে পারেন।
২. সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়া মানুষটিকে ক্ষমা করুন। তবে, ফেসবুক ও অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়া মানুষটিকে অপসারণ করুন। পুরোনো চিঠি ও ছবি ছিঁড়ে ফেলুন, ই-মেইল, মেসেজ ইত্যাদি ডিলিট করুন। পরিচিত কারো কাছ থেকে সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়া মানুষটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করুন।
৩. কেন আমার সঙ্গে এমন হলো বা ও কেন এমন করল- সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর এই প্রশ্নটা অনেকেরই মাথায় ঘোরে। এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা বন্ধ করুন। কারণ, যে চলে গেছে, তার কাছে এর উত্তর চেয়ে লাভ নেই। এর উত্তর সে কখনোই দেবে না। সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পর পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে পোস্টমর্টেম করা বন্ধ করুন।
৪. নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করুন। কোন পরিস্থিতিতে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না, তা চিহ্নিত করুন। নেতিবাচক চিন্তাগুলো নেতিবাচক আবেগের জন্ম দেয়। তাই নিজের নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে চিহ্নিত করে তা ইতিবাচকে রূপান্তরিত করুন। নিজেকে বলুন সম্পর্কটা আপনার জন্য সঠিক ছিল না। যা হয়েছে, তা আপাতত আপনার জন্য কষ্টকর হলেও এটাই আপনার জন্য সঠিক।
৫. সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনেকে কথা বলতে পারে। তবে বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে উপেক্ষা করুন। অন্যের কথায় নিজেকে হীনমন্য না ভেবে নিজের ওপর আস্থা রাখুন। নিজের ভালো দিকগুলো ও সফলতাগুলো দেখার চেষ্টা করুন।
৬. আশপাশে অনেক মানুষ আছে, যাঁরা আপনাকে অনেক ভালোবাসে, তাঁদের ভালোবাসা উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন।
৭. খারাপ লাগাগুলো শেয়ার করতে চাইলে একই জেন্ডারের কারো কাছে শেয়ার করুন। ভিন্ন জেন্ডারের কারো কাছে শেয়ার করতে গেলে অনেক সময় তার দেওয়া আবেগীয় সাহায্যের কারণে তার প্রতি দুর্বলতা তৈরি হতে পারে, আবেগ দ্বারা আচ্ছন্ন থাকায় আবার ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে।

সব খারাপেরই যেমন একটা ভালো দিক থাকে, তেমনি বিচ্ছেদেরও রয়েছে। এমনকী, মনস্তত্ত্ববিদেরাও মনে করেন বিচ্ছেদের রীতিমতো শারীরিক ও মানসিক ভালো দিক রয়েছে-
১. প্রচলিত ধারণা, সম্পর্ক ভাঙলে মানুষ নিজেদের শরীর-স্বাস্থ্য সম্পর্কে উদাসীন হয়ে যান। বাস্তব কিন্তু তার উলটো কথাই বলছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি সমীক্ষা করা হয়েছিল। তাতে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের ৩০ শতাংশই জানিয়েছেন, সম্পর্ক ভাঙার পর তারা নিজেদের শরীরের ব্যাপারে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হয়ে উঠেছেন। রীতিমতো জিমে যোগ দিয়ে নিজেদের ফিটনেস আরও বাড়িয়ে তুলেছেন তারা। হাতে গোনা মাত্র কয়েকজনই বলেছেন, সম্পর্ক ভাঙার পরে তাদের ওজন বেড়েছে। কাজেই ডিপ্রেশন বা মনখারাপ একপাশে সরিয়ে রেখে নিজেকে সুন্দর রাখার দিকে মনোযোগ দিন।
২. সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর জীবনে একটা গভীর শূন্যতাবোধ তৈরি হয়, এ কথা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। কিন্তু সেই শূন্যতায় ডুবে না গিয়ে তাকে কাজে লাগানোর কথা ভাবুন। সোশ্যাল সাইকোলজিক্যাল অ্যান্ড পার্সোনালিটি সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা ব্রেকআপের পর আত্মসমীক্ষা করেন, তারা পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়েও নিতে পারেন।
৩. প্রেম ভেঙে যাওয়ার পরে একটা দীর্ঘ সময় ধরে মনের মধ্যে যেন ঝড় চলতে থাকে। আপনার কাজ হল, মনের ভেঙে যাওয়া টুকরোগুলোকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়া। যা যা মনে হবে, একটা খাতায় লিখে রাখতে পারেন, তাতে অনেকটাই হালকা লাগব। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের একটি গবেষণা বলছে, প্রেম ভাঙার পর নিজের অনুভূতি বা মনের কথা ডায়েরির মতো লিখে রাখলে মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
৪. আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই একটা ডিফেন্স মেকানিজম রয়েছে। যে কোনও ঝড়ঝাপটা কাটিয়ে জীবনের মূল স্রোতে ফিরতে আমাদের সাহায্য করে এই মেকানিজম। সেন্ট লুই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা সোজাসুজি বলেই দিয়েছেন, আমাদের মস্তিষ্কের গঠন এমনই যে প্রেম ভেঙে গেলেও মানিয়ে নিয়ে স্বাভাবিকতায় সে ফিরবেই। ফলে মোটেও ঘাবড়াবেন না, বিচ্ছেদের যন্ত্রণা কাটিয়ে নতুন জীবনের পথে আপনাকে ফিরতে হবেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের সাথেই থাকুন

87,455FansLike
55FollowersFollow
62FollowersFollow
250SubscribersSubscribe

Most Popular

মানসিক রোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে স্টিগমা সবচেয়ে বড় বাধা

মানসিক রোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে স্টিগমা সবচেয়ে বড় বাধা। সর্বশেষ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপে বিভিন্ন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে এই স্টিগমার পরিমান ৩৮-৯৮% পর্যন্ত দেখা গেছে। ২০১৯...

ইম্পোস্টার সিনড্রোম: নিজেকে অযোগ্য মনে করার রোগ

ইম্পোস্টার সিনড্রোম হলো এমন এক ধরণের মানসিক অবস্থা যে একজন মানুষ নিজের যোগ্যতা বা অর্জনকে সন্দেহের চোখে দেখে ও নিজেকে অযোগ্য মনে করে। মনে...

আমার কোন কিছু খেয়াল থাকে না!

সমস্যা: আমার নাম ছাইম আহাম্মেদ। আমি অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র। আমার সমস্যাটি হচ্ছে, আমি কিছুই মনে রাখতে পারি নাহ। ধরুন, এখন ১০ মিনিট পড়লাম...

স্ট্রেস থেকে মুক্তি পেতে যা করতে পারেন

অফিস থেকে বাড়ি, সব জায়গায় কম-বেশি রয়েছে কাজের চাপ। অফিসে বসের ধমক, বাড়িতে রোজকার ঘরোয়া কাজ, জীবন যেন ষোলো আনাই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আর...

প্রিন্ট পিডিএফ পেতে - ক্লিক করুন