মানসিক স্বাস্থ্যের সবকিছু ENGLISH

Home জীবনাচরণ রাগ নিয়ন্ত্রণ

রাগ নিয়ন্ত্রণ

রাগ এমন একটি আবেগ যা মানুষ খুব কমই নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। রাগ আসবে এটাই স্বাভাবিক। তবে রাগ মূলত ক্ষতিকর একটি আবেগ যা নিয়ন্ত্রণে রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে অনেকেই অনেক বাজে কাজ করে বসেন যার কারণে হয়তো পরবর্তীতে পরিতাপ করতে হয় কিংবা অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
নিয়ন্ত্রণহীন রাগ আমাদের জীবনে নিয়ে আসে কিছু নেতিবাচক ফলাফল, বিশেষ করে বিঘ্ন ঘটায় কাজে। সম্পর্ক করে দেয় ছিন্নভিন্ন, সবার সাথে তৈরি হয় দূরত্ব, বিশ্বাস নষ্ট করে দেয় এবং সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়। অনেক সময় এটা আমাদের জীবনে অভিশাপ হিসেবে দুঃখ বয়ে নিয়ে আসে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিনিয়ত রাগের কারণে মানুষ উদ্বেগ ও বিষণ্ণতায় ভোগে। যার ফলাফল খুব একটা ভালো হয় না। কিন্তু কীভাবে নিয়ে আসবেন নিজের
রাগকে নিয়ন্ত্রণে? চলুন জেনে নেয়া যাক রাগ নিয়ন্ত্রণে আনার কিছু টিপস :
-কিছুক্ষণের জন্য রাগের উৎস থেকে দূরে সরে আসুন। যখনই আপনি রেগে যাবেন- যে জায়গায় বা যে বিষয়টিতে রেগে যাবেন দ্রুত সে জায়গা ত্যাগ করবেন বা সে বিষয়টি এড়িয়ে যাবেন।
-যখনই কোনো বিষয় আপনার ভালো লাগবে না কিংবা আপনি বোঝাতে ব্যর্থ হবেন তখন থেমে যান। কেউ যদি আপনার সাথে খারাপ আচরণ করে তবে তার সাথে কথা বাড়িয়ে লাভ কী বলন? এমন অনেক বিষয় আসবে যা আপনাকে করবে রাগান্বিত। তাই এসব বিষয় এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
-আপনার রেগে যাবার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। যদি শুধু শুধু রেগে যান তবে তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। আর যদি তা না হয় তবে অবশ্যই আপনার রাগের পেছনে কী কারণ রয়েছে সেটা বের করুন।
-রাগ হবার কারণ যেমন থাকে তার সমাধানও থাকে। তাই সমাধান খুঁজে বের করে রাগ পরিহার করার চেষ্টা করুন।
-যে সব বিষয় নিয়ে আপনি রেগে যান সেই সব বিষয় থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিন। যদি কারো কোনো কাজ আপনার পছন্দ না হয় কিংবা বুঝতে পারেন কারো কথায় আপনি বিরক্ত হচ্ছেন বা রেগে যাচ্ছেন, তবে সেক্ষেত্রে অন্য কাজে মনোযোগ দিন। এমন কিছু করুন যা আপনার ভালো লাগে। দেখবেন রাগ কমে যাবে।
-মানুষ সব সময়ই কিছু না কিছু ভুল করে। তাই বলে ছোটখাট ভুলের জন্য কারো ওপর রেগে না গিয়ে তাকে ক্ষমা করে দিন। দেখবেন তৎক্ষণাৎ না হলেও পরবর্তীতে আপনার ভালো লাগবে।
-পরিস্থিতি সবসময় একরকম থাকে না। আজ আপনি যার ওপর রেগে যাচ্ছেন কাল হয়তো তার জায়গায় আপনি থাকবেন। তাই রাগ উঠে গেলে পরিস্থিতিটা একটু বঝে নিন। কেউ আপনাকে ইচ্ছে করে রাগিয়ে তুলবে না। তাই পরিস্থিতির কথা ভেবে দেখুন। দেখবেন আপনার রাগ কমে যাবে এবং আপনি বিষয়টা দ্রুত বুঝে যাবেন।
-মানসিক অস্থিরতার কারণে অনেক সময় আমরা স্থির থাকতে পারি না। তখন যে-কোনো বিষয় নিয়েই আমরা রেগে যাই। সব কিছু আমাদের ভুল মনে হয়। তাই আমাদের উচিত স্থির থাকা। আপনি যদি মানসিকভাবে স্থির থাকেন তাহলে মানসিক ভারসাম্যের বিপর্যয় ঘটবে না। ফলে আপনার রাগ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
-রাগ কমানোর দারুণ একটি শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম রয়েছে। যখনই রাগ উঠবে এই ব্যায়ামটি করুন। খুব গভীরভাবে শ্বাস নিন। ধরে রাখুন ৫-৭ সেকেন্ড, তারপর শ্বাস ছাড়ুন এবং আবার শ্বাস নিয়ে ধরে রাখুন। এভাবে ব্যায়ামটি করতে থাকুন যতক্ষণ না আপনি নিজে শান্ত হচ্ছেন। এটা আপনার রাগ কমাতে সহায়তা করবে এবং মস্তিষ্ক শিথিল রাখবে।  গভীরভাবে শ্বাস গ্রহণে আপনার রাগ খুব সহজে কমে আসবে।
-মানুষ যখন রাগ প্রকাশ করতে পারে না তখন তা ভেতরে জমে আরো বেশি ক্ষতির কারণ হয়। তাই নিজের রাগের অনুভূতি একটি ডায়েরিতে লিখে প্রকাশ করুুন। এতে রাগ দ্রুত কমে যাবে।
মানুষের অন্যান্য আবেগের মতো রাগের ফলে বেশ কিছু শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন দেখা যায়। যেমন হৃৎপিন্ডের গতি ও রক্তচাপ বেড়ে যায়, এড্রিনালিন এবং নরএড্রিনালিন হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। যার ফলে মানুষ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন হার্ট সংক্রান্ত সমস্যায় পড়তে পারেন।
রাগ হল মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু। ষড়রিপুর একটি। এই রাগের জন্যই মামুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক খারাপ হয়ে যেতে পারে। রাগ মানুষকে তার আপনজন থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আবার এই একই কারণে আপনি অনেকের কাছেই অপছন্দের ব্যক্তি হয়ে উঠতে পারেন। পরে যখন আপনি বুঝতে পারবেন তখন হয়তো আর সময় থাকবে না। তাই সময় থাকতেই রাগ কমানোর চেষ্টা করুন।
আমরা যদি আমাদের রাগকে প্রশমিত করতে না পারি তবে এর থেকে সৃষ্ট উত্তেজনার ফলে অনেক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সমাপ্তি, আর্থিক ক্ষতি ও স্বাস্থ্য বিষয়ক নানান জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত রাগের ফলে মানুষ নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নানান আইনি জটিলতায়ও পড়তে পারেন। তাই রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের সাথেই থাকুন

87,455FansLike
55FollowersFollow
62FollowersFollow
250SubscribersSubscribe

Most Popular

যৌন আচরণে বংশগতির প্রভাব অনেক

মুহিব আর শিলার দশ বছরের দাম্পত্য জীবন। এই দশ বছরে শিলা মুহিবের মধ্যে এমন কিছু খুঁজে পায়নি যা আপত্তিকর। সৌন্দর্যের প্রতি দুর্বলতা আছে। সেই...

করোনাকালে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দূর করতে হবে মানসিক সমস্যা সংক্রান্ত বিভ্রান্তি

করোনাকালে সুস্থ থাকতে যেমন শারীরিক সুস্থতা প্রয়োজন তেমনি মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষাও প্রয়োজনীয়। আর মানসিক ভাবে সুস্থ থাকতে প্রথমে আমাদের মধ্যে বিদ্যমান মানসিক সমস্যা সংক্রান্ত...

সন্তানের উগ্র আচরণ নিয়ে চিন্তিত?

অল্পতেই রেগে যায়, আক্রমণাত্মক আচরণ করে, কথায় কথায় তর্ক জুড়ে দেয় - সন্তানের এ ধরনের আচরণ নিয়ে অনেক মা-বাবাই চিন্তিত। এ অবস্থায় কী করণীয়...

ক্রোধ শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির অন্যতম কারণ

বলা যায়, ক্রোধ এমন এক দাহ্য যা আপনার শরীর এবং মনকে জ্বালিয়ে অঙ্গার করে দেবে। ক্রোধ মানুষকে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য করে দেয় এবং মানুষ...

প্রিন্ট পিডিএফ পেতে - ক্লিক করুন