মানসিক স্বাস্থ্যের সবকিছু ENGLISH

Home জীবনাচরণ কাজ কীভাবে গুছিয়ে করবেন

কাজ কীভাবে গুছিয়ে করবেন

আমাদের জীবনে দিনের বেশিরভাগ সময় পার হয় কাজের ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে। প্রতিদিনই ভাবছেন কোনো কাজই ফেলে রাখবেন না। কিন্তু তারপরও অনেক কাজ রয়ে যায়। তাই যদি একটু গুছিয়ে কাজ করা যায়, তাহলে আপনার কাজগুলো করা সহজ হবে এবং সব কাজই সময়মতো শেষ করতে পারবেন।
বাসায় বা কর্মক্ষেত্রে কাজ ঠিকমতো গুছিয়ে না করতে পারার কারণে আমাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাছাড়া কাজ ঠিকমতো গুছিয়ে করতে না পারলে একধরনের অশান্তি সারাক্ষণই মনের ভেতর ঘুরপাক খেতে থাকে। আবার অগোছালো কাজ করতে গিয়ে আমরা একই কাজে বেশি সময় নষ্ট করি। তাই একই কাজে বাড়তি সময় ব্যয় করতে না চাইলেও কাজ গুছিয়ে করার অভ্যাস তৈরি করাটা অত্যন্ত জরুরি।
কাজ গুছিয়ে করার কিছু উপায় :
গুছিয়ে কাজ করার প্রথম পদক্ষেপ হলো নিয়মিত ডায়েরিতে কাজের পরিকল্পনা লিখে রাখা। সপ্তাহের ছুটির দিন একটু সময় বের করে বাড়ি ও অফিসের কী কী কাজ আছে এবং কখন সেগুলো করবেন তার একটা পরিকল্পনা ডায়েরিতে লিখে রাখুন।
প্রতিদিনের কাজের একটা ছক তৈরি করুন। প্রতিদিনের কাজের পরিকল্পনা যদি আপনি আগের দিন রাতেই ঘুমাতে যাবার আগে এই ছকে লিখে রাখেন, তাহলে সকালে ঘুম থেকে উঠেই সেটা দেখে আপনি ধারণা নিতে পারবেন যে সারাদিনে ঠিক কখন আপনার কোন কাজটি করতে হবে। এতে করে কাজের একটা ধারা বজায় থাকে।
যদিও আপনার রুটিনে থাকা সব কাজই গুরুত্বপূর্ণ, তবুও গুরুত্ব অনুসারে কাজ ভাগ করে নেয়া উচিত। অর্থাৎ যে কাজটির গুরুত্ব বেশি বা দ্রুত সেরে ফেললে আপনার জন্য সুবিধা হয়, সেটি আগেভাগেই করে ফেলুন। এতে করে আপনার মানসিক চাপ কমে যাবে এবং অন্যান্য কাজগুলো করাও সহজ হবে।
প্রত্যেকটি কাজের জন্য সময় নির্ধারণ করুন এবং প্রয়োজনের তুলনায় একটু বেশি সময় রাখার চেষ্টা করুন। কারণ, অনেকসময় কোনো একটা কাজে সময় একটু বেশি লাগতে পারে, তখন পরের কাজের সময়টাও ঠিক থাকে না। তাই সময় একটু বেশি রাখলে এই ঝামেলা এড়ানো যায়।
আপনার পারিবারিক আর প্রাতিষ্ঠানিক কাজগুলোকে আলাদা করে সে অনুযায়ী কাজ ভাগ করে নিন। যেদিন অফিস বা কর্মক্ষেত্রে কাজের চাপ কম থাকবে সেদিন নিজের একান্ত ব্যক্তিগত কাজগুলো সেরে নিন।
একসঙ্গে বেশি কাজ করার চেষ্টা করবেন না। কাজের পরিকল্পনা এমনভাবে করুন, যেন কোনোদিনই আপনার ওপর বেশি চাপ না পড়ে।
একটা কাজ শেষ না করে আরেকটা কাজ শুরু করবেন না। তাহলে কোনো কাজই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে না। তাই যে কাজটা প্রথমে শুরু করবেন সেটা শেষ করে তারপর অন্য কাজ করার চেষ্টা করুন।
কোনো কাজেই তাড়াহুড়ো করবেন না। কারণ, তাড়াহুড়োয় কাজে ছোটখাটো অনেক ভুল হতে পারে। অতএব সময় নিয়ে ধীরেসুস্থে কাজ করুন।
বাসায় এবং অফিসের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র একটা নির্দিষ্ট ড্রয়ারে রাখুন। আর ভুলে যাওয়ার সমস্যা থাকলে একটা ছোট নোটবুকে লিখে চোখের সামনে কোনো এক জায়গায় রাখুন।
যেখানকার জিনিস সেখানেই রাখার অভ্যাস তৈরি করুন। অর্থাৎ কোনো একটা জিনিস যেখান থেকে নিয়ে কাজ করবেন, কাজ শেষ হলে সেখানেই আবার রেখে আসুন। এই অভ্যাস রপ্ত করতে পারলে কোনো জিনিস খুঁজতে সময় নষ্ট হবে না।
যে জিনিসগুলো সবসময় কাজে লাগে, সেগুলোকে হাতের কাছেই রাখুন। তবে খেয়াল রাখতে হবে বিভিন্ন জিনিস একসাথে রাখা যাবে না। আলাদা ধরনের জিনিস আলাদা রাখার চেষ্টা করুন। তাহলে খুঁজতে পেতে সহজ হবে।
গোছানো কাজ অধিক ফলপ্রসূ হয়। জীবনকে কম চাপযুক্ত করার জন্য কাজ গুছিয়ে করার অভ্যাস রপ্ত করতে হবে এবং এতে কোনো কাজের পেছনে আর বাড়তি সময় ও পরিশ্রম দিতে হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের সাথেই থাকুন

87,455FansLike
55FollowersFollow
62FollowersFollow
250SubscribersSubscribe

Most Popular

আমার স্বপ্নদোষ অনেক কম হয়

সমস্যা: আমার বয়স ১৮ বছর। আমি কখনো হস্তমৈথুন করিনি।আমার বন্ধুদের কাছে শুনেছি যে ওরা প্রায় সবাই এটা করে। আমিও চেষ্টা করেছি।কিন্তু সুবিধা করতে পারিনি।...

মাদকাসক্তি প্রতিরোধে পরিবারের ভূমিকা

মাদকাসক্তি একটি রোগ। আরো স্পষ্ট করে বললে মাদকাসক্তি একটি মানসিক রোগ বা মস্তিষ্কের রোগ। মাদক সেবন করলে কি ছুসংখ্যক লোক মাদকাসক্ত হয় (আনু. ১০%)।...

বিষণ্ণতা বলতে আপনি যা ভাবছেন সেটা কি আদৌ সঠিক?

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিষণ্ণতা বিষয়ে সার্বজনীন যে ধারণা প্রচলিত আছে সেটি সঠিক নয়। বিষণ্ণতা শুধু মন খারাপ বা অসুখী জীবনযাপন নয়; বরং আরও বিষদ কিছু। বিশেষজ্ঞদের...

মন খারাপ হলে কি করবেন?

সব পরিস্থিতি আপনার অনুকূলে থাকবে এমনটা আশা করা কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কিন্তু এমন মন খারাপ করা প্রতিকূল পরিবেশে, যখন আপনার আবেগ আপনার নিয়ন্ত্রণের...

প্রিন্ট পিডিএফ পেতে - ক্লিক করুন