মানসিক স্বাস্থ্যের সবকিছু Lastname
Home সম্পর্কের মাঝে আবেগের গুরুত্ব

সম্পর্কের মাঝে আবেগের গুরুত্ব

সঙ্গীর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করে তার অবলম্বন হয়ে ওঠার জন্য অন্যান্য সব সহায়ক ভূমিকাগুলোর মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক এবং আবেগপূর্ণ সহায়তা খুব সূক্ষ্ম কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপায়।

একটি সফল বৈবাহিক সম্পর্কে যে কোন প্রয়োজনে দম্পতি একে অপরের মানসিক অবলম্বন হয়ে ওঠে। আমরা আমাদের পরিবার এবং বন্ধু বান্ধবদের সাথেও সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ থাকি। কিন্তু দাম্পত্য জীবনের সম্বন্ধ অন্য যে কোন সম্পর্ক থেকে অনেক বেশি গভীর এবং বিস্তৃত। তাই মনস্তাত্ত্বিক বন্ধনটিও আরও বেশি দৃঢ়।

যখন আমাদের মাঝে একে অন্যের প্রতি বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়, তখন  আমরা আমাদের যে কোন প্রয়োজনে-আনন্দে, দুঃখে, আদেশ, উপদেশ, কিংবা সুরক্ষায় আমাদের সঙ্গীর উপর ভরসা করতে পারি, বিশ্বাস রাখতে পারি। তখন দুজনার মাঝে সকল একাকীত্বের অনুভূতি দূর হয়ে যায় এবং দুজন দুজনার অবলম্বন হয়ে ওঠে।

আমরা আমাদের আবেগ এবং অনুভূতি খুব সহজ সরল ভাবেই আমাদের সঙ্গীর কাছে প্রকাশ করতে পারি। কখনো নিজের মনোভাব তার নিকট ব্যক্ত করি আবার কখনো কখনো তার আবেগের গুরুত্ব দেই। আমাদের খুব ছোট ছোট কথা বা কাজ আমাদের সঙ্গীর মনে অনন্ত সুখের অনুভূতি জাগাতে পারে। যেমন, সত্যি যা ই হোক, আপনি আপনার সঙ্গীর সাজ সজ্জার প্রশংসা করতে পারেন, যে কোন বিরোধের পর তার কাছে নিজে ক্ষমা চাইতে পারেন, তার বিভিন্ন কাজে স্বপ্রণোদিত হয়ে সহায়তা করতে পারেন। এই কাজগুলো সঙ্গীর প্রতি আপনার ভালবাসাপূর্ণ মনাভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে।

অনেক সময় আপনার মনে হতে পারে এই কাজ গুলো হয়তো আপনার সঙ্গীকে একটি ঘোরের মধ্যে রাখছে বা আপনি মিথ্যাচার করছেন। কিন্তু এরকম ভাবার কোন কারণ নেই। আপনার মুখের একটু হাসি, আপনার বলা ছোট্ট একটি মিথ্যা কথা হয়তো আপনার সঙ্গীর মনে অপার সুখের অনুভূতি সৃষ্টি করছে। আপনার আচরণ কখনোই কোন ক্ষতির কারণ হয়ে ওঠেনি। তাই মনের সাথে মনের মিলনে কোন বাধাই বাধা নয়।

একটি সমঝোতাপূর্ণ সুন্দর সম্পর্কে শুধু তাদের নিজেদের মধ্যে নয় বরং তাদের সাথে জড়িত অন্যান্য সামাজিক সম্পর্কের মাঝেও ভাবের আদান প্রদান হয়। একে অপরের আত্মীয় স্বজন এবং বন্ধু বান্ধবের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়। মনোভাব যা ই হোক, সেটি নিজের মাঝে রেখে অপর জনের সম্পর্ক এবং কাজকে সম্মান দিতে হবে। এতে করে একের অপরের প্রতি সম্মান এবং গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে।

প্রতিটি সম্পর্কে মনস্তাত্ত্বিক আদান প্রদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন একটি সম্পর্কের প্রতি যতটা যত্নশীল এবং অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে, অপরজনও ঠিক ততোটাই নিবেদিত হবে। সঙ্গীরা একে অপরের প্রতিবিম্ব হয়। তাই নিজের মনের ভাব ব্যক্ত করা এবং অপরজনের মনের ভাবের গুরুত্ব দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: সাইকোলজি টু’ডে- https://www.psychologytoday.com/intl/blog/so-happy-together/201910/emotion-work

অনুবাদ করেছেন: প্রত্যাশা বিশ্বাস প্রজ্ঞা

মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে চিকিৎসকের সরাসরি পরামর্শ পেতে দেখুন: মনের খবর ব্লগ
করোনায় মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক টেলিসেবা পেতে দেখুন: সার্বক্ষণিক যোগাযোগ
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
করোনায় সচেতনতা বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও বার্তা দেখুন: সুস্থ থাকুন সর্তক থাকুন

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের সাথেই থাকুন

87,455FansLike
55FollowersFollow
62FollowersFollow
250SubscribersSubscribe

Most Popular

দ্বন্দ্বপূর্ণ আচরণ এবং আমাদের চিন্তার জগত

“বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে চাকুরীতে ঢোকার পরপরই সিমির (ছদ্মনাম) বিয়ে হয়ে যায়। ২বছরের একটি সন্তান আছে তাঁর। অন্তঃস্বত্বা হবার পরই চাকুরীটা ছেড়ে দেয়। ইদানিং সে...

মহামারীতে সম্পর্কে টানাপড়েন এড়াতে করণীয়

কোভিড-১৯এর এই দুঃসময়ে গুলোকে বেশ জটিল মনে হতে পারে। তবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে পারলে মনের অমিল এবং সম্পর্কের এই জটিলতা গুলোকে বেশ সহজে...

সেক্সুয়াল মিথ ও যৌন স্বাস্থ্য: ২য় পর্ব

পর্নোগ্রাফীতে যে সহজতা থাকে, যে উত্তেজনার মাত্রা থাকে বাস্তব জীবনে তা থাকে না। কারণ অভিনয়ে বাড়াবাড়ি রকমের কিছু না থাকলে মানুষের মনে তা ধরে...

মহামারী কালে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে পারিবারিক বন্ধনের ভূমিকা

আমাদের কাছের মানুষ গুলোর সাথে আমাদের সম্পর্ক যত গভীর, বিপদ মোকাবেলায় আমাদের মানসিক শক্তি থাকবে ততোটাই বেশী। যে কোন বিপদ মোকাবেলায় পরিবার ও কাছের মানুষদের...

প্রিন্ট পিডিএফ পেতে - ক্লিক করুন