মানসিক স্বাস্থ্যের সবকিছু ENGLISH

Home মানসিক রোগের সাথে সৃজনশীলতার সম্পর্ক আছে?

মানসিক রোগের সাথে সৃজনশীলতার সম্পর্ক আছে?

সৃষ্টিশীলতা আসে দেবতার কাছ থেকে। এমনটাই বিশ্বাস করত প্রাচীন গ্রিসের লোকেরা। গ্রিক মিথ অনুসারে শিল্প, সাহিত্য এবং বিজ্ঞানের উৎস ছিল নয়জন ‘মিউজ’। গ্রিক দেবতাদের রাজা—দেবতা জিউসের ৯ মেয়েকে বলা হতো ‘মিউজেস’। এমনকি আঠারো শতকেও মনে করা হতো নিজে থেকে কেউ সৃষ্টিশীল হতে পারে না। সৃষ্টিশীলতা এমন এক গুণ যা কারো কারোই থাকে, সবার থাকে না। এমনকি এটাও মনে করা হতো যে বিষণ্ণতা, সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার ডিজঅর্ডার এসব মানসিক অসুস্থতার সাথে সৃষ্টিশীলতার কোনো না কোনো সম্পর্ক আছে। চিত্রশিল্পী, লেখক, কবি, গায়ক, নাট্যকার, নৃত্যশিল্পী, অভিনয়শিল্পী, ইত্যাদি সৃষ্টিশীল মানুষের মানসিক রোগে ভোগার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।
সাইকোলজিস্ট জে ফিলিপ রাশটন পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, সৃষ্টিশীলতার সাথে বুদ্ধি ও বিভিন্ন মুড ডিজঅর্ডারের সম্পর্ক আছে। সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার ডিজঅর্ডার, ইউনিপোলার ডিপ্রেশনের শিকার ৩ লাখ লোক আর তাদের রিলেটিভের ওপর পরিচালিত একটি জরিপে দেখা গেছে যাদের সিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিজঅর্ডার আছে, তাদের মধ্যে ক্রিয়েটিভিটি বেশি। তাদের ভাইবোনদের মধ্যেও ক্রিয়েটিভ কাজ করার ঝোঁক বেশি। তবে যারা ইউনিপোলার ডিপ্রেশনের শিকার, তাদের মধ্যে এরকম কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায় নি।
তার মানে কি ক্রিয়েটিভিটি আর সিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিজঅর্ডারের মতো মানসিক রোগের মধ্যে সত্যি সত্যি কোনো সম্পর্ক আছে? বিভিন্ন সাইকোলজিস্ট পরিচালিত অনেকগুলো গবেষণা থেকে পাওয়া ফলাফল এরকমটাই সমর্থন করে। তার মানে নানা রকম মানসিক রোগের সাথে ক্রিয়েটিভ কাজ কর্মের সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে সিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিজঅর্ডারের সাথে এই সম্পর্ক আরো নিবিড়। মানুষের ব্যক্তিত্ব এবং কার্যকলাপের পেছনে দায়ী বিভিন্ন জিন পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে সিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিজঅর্ডারের জন্যে নির্দিষ্ট কিছু জিন দায়ী। এই ধরনের জিনের সংখ্যা যে মানুষের মধ্যে যত বেশি, তার এই দুই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। তবে অনেক সময় শরীরে ‘রিস্ক জিন’-এর উপস্থিতি থাকার পরেও অনেক মানুষের মধ্যেই কোনো রকম মানসিক অসুস্থতা দেখা যায় না। কিন্তু এই মানুষটিই যদি জড়িত থাকেন বিভিন্ন ক্রিয়েটিভ কাজে, তাহলে তার মধ্যে সিজোফ্রেনিয়া বা ম্যানিক ডিপ্রেশন হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণ মানুষটির চেয়ে দ্বিগুণ বেশি।
বিভিন্ন জিন যেগুলো সিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিজঅর্ডার-এর জন্যে দায়ী, সেই জিনগুলোই মানুষের ক্রিয়েটিভিটির উৎস। এমনটাই ইঙ্গিত দেয় এই গবেষণার ফলাফল। ক্রিয়েটিভ কাজের প্রতি ঝোঁক বাড়তে থাকলে, সিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিজঅর্ডার-এর শিকার হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে। তবে এরকম মনে করার কোনো কারণ নেই যে, সিজোফ্রেনিয়া কিংবা বাইপোলার ডিজঅর্ডার ক্রিয়েটিভ মানুষের জন্যে উপকারী। কাজের প্রয়োজনেই ক্রিয়েটিভ মানুষদের চিন্তা করতে হয় বাক্সের বাইরে। সাধারণ মানুষের চিন্তা ভাবনার চেয়ে তাদের চিন্তা ভাবনার ধরণ অনেক অন্য রকম হয়। তারা অনেক বেশি অনুভূতিপ্রবণ বা সেনসিটিভ হয়ে থাকেন। বাস্তবতা আর কল্পনার সূক্ষ্ম ফারাকটুকু অনেকসময়ই ধরতে পারেন না তারা। তাদের নিজেদের বাস্তবতা বাস্তবের চেয়ে অনেক ভিন্ন হলেও, আশেপাশের বাস্তবতা থাকে আগের মতোই। কোনটা বাস্তব আর কোনটা মনগড়া—এই টানাপোড়েনের স্ট্রেস থেকেই মানসিক রোগে ভোগার সম্ভাবনা বাড়িয়ে চলেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের সাথেই থাকুন

87,455FansLike
55FollowersFollow
62FollowersFollow
250SubscribersSubscribe

Most Popular

ধর্ষণ নিয়ে মনের টিভি’তে বিশেষ আয়োজন

ধর্ষণ সহ নারী নির্যাতনের ঘটনা যেন প্রতিনিয়ন বেড়েই চলেছে আমাদের দেশে। কোনোভাবেই যেন তা রোধ করা যাচ্ছে না। সম্প্রতি জন দাবীর মুখে ধর্ষণের সর্বোচ্চ...

যুক্তরাজ্যে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন ৮৬ ভাগ নারী

যুক্তরাজ্য ৪ দিন ব্যাপী নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর একটি ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের তুলনায় শতকরা ৪৯ ভাগ নারীদের...

সন্তানের আচার আচরণ কি আপনাকে চিন্তায় ফেলছে?

অনেক সময়ই অভিভাবকরা নিজেদের সন্তানের জন্য সময় বের করে তাদের দুর্ব্যবহারের জন্য তাদেরকে পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করেন – তারা রাগ দেখাতে শুরু করে, কখনও...

আচরণগত আসক্তি ও এর চিকিৎসা

ফেসবুক, সেলফি, ইন্টারনেট, শপিং, খেলায় বাজি ধরা আমাদের সামাজিক জীবনে আজ খুবই পরিচিত অনুষঙ্গ। কিছু মানুষ ব্যস্ত মোবাইলে, কেউ বা কেনাকাটায় আবার কেউ বা...

প্রিন্ট পিডিএফ পেতে - ক্লিক করুন