মানসিক স্বাস্থ্যের সবকিছু

Home যে রোগ হলে মনে থাকে সব কিছু!

যে রোগ হলে মনে থাকে সব কিছু!

গত মাসের প্রথম সোমবার আপনি কি পোশাক পড়েছিলেন তা কি মনে আছে? কিংবা তিন বছর আগের এই দিনে আপনি রাতের বেলা কি খেয়েছিলেন তা মনে আছে? মনে করাটা বেশ কঠিন তাই না?

তবে আপনি-আমি না পারলেও বিশ্বে অন্তত ৬ জন মানুষ রয়েছেন যারা এটা মনে করতে পারেন।

২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্বে ৬ জন হাইপারথাইমেসিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সন্ধান নিশ্চিত করেছেন গবেষকরা। এটি এমন একটি রোগ, যাতে আক্রান্ত হলে আপনি আপনার জীবনের প্রায় প্রতিটি দিন মনে রাখতে পারবেন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে।
হয়তো দোলনায় কাটানো দিনগুলোর কথা আমাদের কারোরই মনে থাকে না। তবে ৫৪ বছর বয়সি জিল প্রেইস দাবি করেছেন, ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত সব কিছুই মনে করতে পারেন তিনি। এখন প্রশ্ন আসে, হাইপারথাইমেসিয়া কি তাহলে আশির্বাদ নাকি অভিশাপ? আপনার কাছে সুযোগ থাকলে কি আপনি মনে রাখতে চাইবেন সব কিছু? নাকি যেটুকু মনে করতে পারেন তাতেই আপনি খুশি?
হাইপারথাইসেমিয়ার কারণ হচ্ছে, তাদের মস্তিষ্কের একটা বিশেষ অংশ অস্বাভাবিকভাবে বড় থাকে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তাদের মস্তিষ্কের কাডেট নিউক্লিয়াস বেশ বড়। মস্তিষ্কের এই অংশে আপনাআপনিই স্মৃতি জমা হয়। শুধু গুরুত্বপূর্ণগুলো নয়, সব ধরনের স্মৃতি আর তথ্যই এতে জমা হয়। এমনকি কোন নির্দিষ্ট দিনে কি ধরণের কাপড় তারা পড়েছিলো কিংবা ঐদিনের আবহাওয়া কেমন ছিলো তা হুবহু মনে করতে পারেন তারা। আর একাজে তাদের সহায়তা করে বড় আকারের টেম্পোরাল লোব।
আরেক গবেষণা বলছে, যারা হাইপারথাইমেসিয়ায় আক্রান্ত তাদের মস্তিষ্কের ভিজ্যুয়াল অংশ বেশি কার্যকর হয়। তাদের স্মৃতিগুলো মস্তিষ্কে সিনেমার মতো চলতে থাকে। এটা জেনে অবশ্য অনেকে এনিয়ে আগ্রহী হতে পারেন। কারণ এতে নিজের মধ্যেই নন-স্টপ বিনোদনের ব্যবস্থা থাকে। কারণ আপনি চাইলেই যেকোন সময় যেকোন ভালো স্মৃতি সিনেমার মতোই দেখতে পারবেন।
তবে বিষয়টা এতোটা সোজা নয়। ভিজ্যুয়াল অংশ সক্রিয় থাকলেও কোন স্মৃতি কখন মনে আসবে তার উপর কোন নিয়ন্ত্রণ থাকেনা। অর্থাৎ সবসময় শুধু ভালো স্মৃতি নয়, বরং খারাপ স্মৃতিও সেই একই মাত্রায় কষ্টদায়ক হয়ে মনে পরে। তাই অতীতের স্মৃতির মধ্যে থাকলে খারাপ হয় বর্তমান আর ভবিষ্যতও।
তবে আশার কথা হচ্ছে, হাইপারথাইমেসিয়ায় মানুষ শুধু নিজের অতীতের ঘটনাই মনে রাখতে পারে। অন্য কারো নয়। তাই অতীতে না বেঁচে সামনে এগিয়ে যেতে হবে এটাই হতে হবে মন্ত্র। মনে রাখতে হবে, নিজের স্মৃতির নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে। আগামির প্রতিটি দিন অতীতের চেয়ে বর্ণিল। নতুন মানুষের সাথে মেশা, ভালোবাসা ছড়ানো আর নতুন অভিজ্ঞতাই হাইপারথাইমেসিয়ার একমাত্র ওষুধ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের সাথেই থাকুন

87,455FansLike
55FollowersFollow
62FollowersFollow
250SubscribersSubscribe

Most Popular

মহামারি ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে মনের খবর মাসিক ম্যাগাজিন প্রকাশিত

করোনা মহামারিতে ৫ মাস বিরতির পর প্রকাশিত হয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক দেশের অন্যতম বহুল পঠিত মাসিক ম্যাগাজিন মনের খবর এর সেপ্টেম্বর সংখ্যা। অন্যান্য সংখ্যার...

সামাজিক দূরত্ব এবং সম্পর্কের বোঝাপড়া

মহামারীতে সামাজিক দূরত্বের সাথেসাথে দূরত্ব বেড়েছে সম্পর্কগুলোর। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়াতে বন্ধু/বান্ধবীর সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই মুঠো ফোনটাই। আটকে পরেছে দেশের বিভিন্ন...

সম্পর্কে অসন্তুষ্টি এবং কিছু ভুল ধারণা

সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত রক্ষণশীল মনোভাব এবং আমাদের বেশ কিছু ভুল ধারণা আমাদের মাঝে অসন্তুষ্টির সৃষ্টি করে। আর এই অসন্তুষ্টি দূর করতে গিয়ে অনেকে প্রায়শই...

মহামারীতে মানসিক চাপের উপশম করবে পোষা প্রাণী

মহামারীর এই দুঃসময়ে মানসিক অশান্তি এবং দুশ্চিন্তা কমাতে সহায়তা করতে সক্ষম ঘরে থাকা পোষা প্রাণী। মনস্তত্ত্ব বিদ্যা এমনটাই বলছে। মহামারীর এই দুঃসময়ে বাড়তে থাকা একাকীত্ব,...

প্রিন্ট পিডিএফ পেতে - ক্লিক করুন