দেড় বছর ধরে এগারোফোবিয়ায় ভুগছি

0
239
ফেইল করার ভয়ে পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ করে দিই

আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে নানা ঘটনা,দুর্ঘটনা। যা প্রভাব ফেলে আমাদের মনে। সেসবের সমাধান নিয়ে মনের খবর এর বিশেষ আয়োজন ‘প্রতিদিনের চিঠি’ বিভাগ। এই বিভাগে প্রতিদিনই আসছে নানা প্রশ্ন। আমাদের আজকের প্রশ্ন পাঠিয়েছেন -সৈকত মজুমদার (ছদ্মনাম)-

স্যার আমার বয়স ২২ বছর। আমি বিগত দেড় বছর ধরে এগারোফোবিয়ায় ভুগছি। যদিও আমি আগে বুঝতে পারি নি যে এটি এগারোফোবিয়া। আমি বাইরে একা যেতে পারি না। একা বাসা থেকে একটু দূরে গেলেই আমার Anxiety ফিলিংস বেড়ে যায় এবং মনে হয় মাথা ঘুড়িয়ে পড়ে যাব। আর মনে হয় যে আমি মাথা ঘুড়িয়ে পড়লে কে আমাকে হসপিটালে নিয়ে যাবে। এই সব ভয়ে আমি একা বের হতে পারি না। বের হলে বেশি দূর যেতে পারি না। মাথা ঘুরায়,হাত পা কাজ করে না। Anxiety  ফিলিং টাকে কোনো ভাবেইই কন্ট্রোল করতে পারছি না। দয়া করে আমাকে একটি দিক নির্দেশনামূলক ব্যাখ্যা দিন। ধন্যবাদ।

ধন্যবাদ আপনাকে। আজকাল মানসিক স্বাস্থ্য তথা মানসিক রোগ নিয়ে আমাদের ভিতর সচেতনতা বাড়ছে আপনার লেখাটি পড়ে সেটা আবার বুঝতে পারলাম। এগোরাফোবিয়ার মতো জটিল একটা নাম আপনি মনে রেখেছেন এবং সেটির সমস্যা বুঝতে পারছেন। আপনি এটিও বুঝতে পারছেন এটি একটি রোগ এবং মানসিক রোগ। দেখুন যেকোনো রোগ, চিকিৎসা ব্যাতিত শুধু নিজে থেকে চেষ্টা করে সারানো কঠিন। অনেক সময় ক্ষতিকর। অনেকে এসবকে পাত্তা না দিয়ে নিজে নিজে ঠিক করে ফেলবে ভাবেন অথবা ভাবেন এমনিতেই এসব ঠিক হয়ে যাবে। দুটি চিন্তার কোনোটাই ঠিক না। আপনার ক্ষেত্রে বিষয়টি কি আমি জানিনা। আপনি কি বর্তমানে কোনো চিকিৎসা করাচ্ছেন বা আগে করিয়েছেন সেটা জানতে পারলে ভালো হতো।

যাইহোক, আপনার এই রোগটির চিকিৎসার জন্য বেশকিছু পরীক্ষা নিরীক্ষাও করানো দরকার, যেনম আপনার হরমোনের কোনো সমস্যা আছে কিনা, হার্টের বা অন্য কোনো সাধারণ সমস্যা আছে কিনা। কোনো সমস্যা না থাকলে আপাতত টেবলেট-আরপোলাক্স ২০ মিগ্রা, সকালে একটা করে (নাস্তার পর) শুরু করতে পারেন। সেই সাথে রিলাক্সেশন শিখে নেয়া দরকার।আপনার চিন্তার পরিবর্তন করানোর জন্য সাইকোথেরাপীও কাজ করবে। যেখানেই থাকেন, ওষুধ শুরু করার দুই-তিন সপ্তাহ পর সরাসরি দেখা করে চিকিৎসা নিতে পারেন। রিলাক্সেশন টেকনিকও শিখে নিতে হবে। ভালো থাকেন। মনের খবরের সাথেই থাকেন।

এগারোফোবিয়া সর্ম্পকে আরো জানতে নিচের লিংক দেখুন:

নেতিবাচক চিন্তা ও ভয় আপনাকে গৃহে অবরুদ্ধ রাখতে পারে

ইতি,
প্রফেসর ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব

চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক – মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
সেকশন মেম্বার – মাস মিডিয়া এন্ড মেন্টাল হেলথ সেকশন অব ‘ওয়ার্ল্ড সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন’।
কোঅর্ডিনেটর – সাইকিয়াট্রিক সেক্স ক্লিনিক (পিএসসি), মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
সাবেক মেন্টাল স্কিল কনসাল্টেন্ট – বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম।
সম্পাদক – মনের খবর। চেম্বার তথ্য – ক্লিক করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here