আমি ২ বছর ইয়াবা আসক্ত ছিলাম

0
305
ফেইল করার ভয়ে পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ করে দিই

আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে নানা ঘটনা,দুর্ঘটনা। যা প্রভাব ফেলে আমাদের মনে। সেসবের সমাধান নিয়ে মনের খবর এর বিশেষ আয়োজন ‘প্রতিদিনের চিঠি’ বিভাগ। এই বিভাগে প্রতিদিনই আসছে নানা প্রশ্ন। আমাদের আজকের প্রশ্ন পাঠিয়েছেন – সাইফুল হক (ছদ্মনাম)-

আমি একজন সাংবাদিক। আমি ২ বছর ইয়াবা আসক্ত ছিলাম। গত ১৩ মাস আমি ড্রাগ ফ্রী।.কিন্তু এই ড্রাগ ছাড়ার পর আমার অনেক মানসিক সমসসা দেখা দেয়। অনেক মনরোগ ডাক্তার দেখিয়েছি। কোন লাভ হয় নি। বাংলাদেশে এমন কোন মানসিক ঔষধ মেডিসিন নেই যা আমি খাইনি। কোনটাই কাজ করেনা। আমার গুরুতর সমসসা হচ্ছে, বিষণ্ণতা অনিদ্রা, প্রচুর স্বপ্ন দেখি কোন কিছুই ভাল লাগেনা কারো সাথে কথা বলতে, বা মোবাইল এ কল করতে বা ধরতে ভাল লাগেনা। মাথায় কোন চাপ নিতে পারিনা, বিনোদোনে কোন আগ্রহ নেই, কোথাও ঘুরতে যেতে ভাল লাগেনা। মোট কথা সম্পূর্ণ একলা আমি অফিস থেকে বাসা, বাসা থেকে অফিস, এর বাইরে আমার আর কোন জগত নেই। আমার জন্য কিছু করা যাবে কি?

ইয়াবার নেশা ছাড়ার পর বা অনেকদিনে চালানোর পর এমন হতে পারে। তবে সেটা কতদিন চলবে বা সেটাকে কিভাবে চিকিৎসা করাবেন সেটা ভিন্ন প্রশ্ন। যথাযোগ্য ভাবে চিকিৎসা চললে তো এই সমস্যা্ আপনার ঠিক হয়ে আসার কথা। কিছু যদি মনে না করেন, চিকিৎসা সংক্রান্ত কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই। যেমন; আপনি কি নিয়মিত চিকিৎসা করিয়েছেন। মানে যখন যখন আপনাকে ডাক্তারের কাছে যেতে বলেছে তখন কি গিয়েছেন? আপনি সঠিক উপায়ে ওষুধ খেয়েছন? সঠিক ডোজ, সময় এবং পরিমান মতো? মানসিক সমস্যার, বিশেষ করে বিষণ্ণতার এক একটা ওষুধ কাজ করতে সময় লাগে। কোনো কোনো ওষুধের পূর্ণ কার্যক্রম চলার জন্য ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। সুতুরাং এটা একটা বিষয় আপনি কিভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন? কিভাবে ডাক্তার দেখিয়েছন এবং কিভাবে ওষুধ সহ চিকিৎসা চালিয়েছেন।

বর্তমানে আপনি বেশ কষ্টে আছেন সেটা বোঝাই যাচ্ছে। তবে এর সমাধান কিন্তু আছে। শুধু মনে রাখতে হবে এই চিকিৎসায় আপনাকে একটু সময় ধরেই করতে হবে। পরিবারে মানুষজনকেও চিকিৎসায় অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। ইয়াবা একটা স্টিমুলেন্ট বা উত্তেজক পদার্থ । এটি মানুষকে সাময়িক চাঙ্গা করতে পারেন। শক্তি জোগাড় দিতে পারে, ঘুম কমিয়ে দেয়, খাওয়া কমিয়ে দেয়, ফুর্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। খেতে খেতেও একসময় বিষণ্ণতায় পেয়ে বসতে পারে। সেই সাথে ঘুমের যেতেহু সমস্যা হয়, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার কারনে শরীর সঠিক ভাবে তৈরি হতে পারেনা। এসব কারণে সমস্যা অনেক সময় দীর্ঘায়িত হয়। তবে অবশ্যই সঠিক চিকিৎসা আপনাকে নিতে হবে। আপনার জন্য আলাদা পরামর্শ হলো, আপনি যেকোনো একজন ডাক্তারকে দেখান। উনি যদি আপনাকে ভর্তি হতে বলে সেটাও করেন। নিজের মতো করে সিদ্ধান্তা নিবেন না। চিকিৎসা চিকিৎসাই। অন্য দশটা রোগের মতো এটিকেও একটি রোগ মনে করতে হবে। কি ওষুধ খেয়েছন, কতটুকু খেয়েছেন, কতদিন খেয়েছেন এসব জানা গেলোনা বলে আপনাকে আলাদা আর কোনো পরামর্শ দিলাম না।ধন্যবাদ মনের খবর পড়ার জন্য। অন্যদেরকেও পড়তে বলবেন।

ইতি,
প্রফেসর ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব

চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক – মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
সেকশন মেম্বার – মাস মিডিয়া এন্ড মেন্টাল হেলথ সেকশন অব ‘ওয়ার্ল্ড সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন’।
কোঅর্ডিনেটর – সাইকিয়াট্রিক সেক্স ক্লিনিক (পিএসসি), মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
সাবেক মেন্টাল স্কিল কনসাল্টেন্ট – বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম।
সম্পাদক – মনের খবর। চেম্বার তথ্য – ক্লিক করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here