আমি তাদেরকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখি

0
579
ফেইল করার ভয়ে পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ করে দিই

আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে নানা ঘটনা, দূর্ঘটনা। যা প্রভাব ফেলে আমাদের মনে। সেসবের সমাধান নিয়ে ‘মন প্রতিদিন’ বিভাগ। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যেকোন প্রশ্ন পাঠাতে পারেন  এই বিভাগে। দাকোপ, খুলনা থেকে আমাদের আজকের প্রশ্নটি পাঠিয়েছেন  লাবনী ইয়াসমিন (ছদ্মনাম)  –

আমার বয়স ১৮ বছর। আমরা ২ ভাই বোন। আমি বড়৷ আমার ছোট একটা ভাই আছে। আমাদের আব্বু মারা গেছেন ২ বছর আগে। আমার এক কাকা আমাদের সব জমিজমা দেখে। আমি আমার আম্মু আর কাকাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছি। তারপর থেকেই ডিপ্রেশনে ভুগছি। আমি ভীষণ মানসিক যন্ত্রনায় আছি। আমি কারো সাথে শেয়ারও করতে পারছি না। তাই আপনাদের কাছে পরামর্শ চাইছি। আমি এই যন্ত্রনা থেকে মুক্তি চাই। আমি তাদের দুজনকেই ঘৃণা করি।

আপনার বিষয়টি কষ্টকর ও দুঃখজনক। মানুষ হিসেবে আমাদের দুঃখকেই জয় করতে হয় প্রতদিন। আপনিও এই নিয়তি বা নিয়মের বাইরে না। আপনার এই বিষয়টিকে অনেক ভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। একজন মানুষ হিসেবে, একজন নারী হিসেবে, একজন সন্তান হিসেবে, একজন ভুক্তভোগী বা ভিক্টিম হিসেবে, একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে, একজন বিষণ্ণতায় ভুগতে থাকা মানুষ হিসেবে। এক এক দিক থেকে দেখলে বিষয়টির অনুভব বা পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা একেক রকম হবে। সবদিক থেকে না দেখে বিষয়টিকে যদি আমারা দুইভাবে ব্যাখ্যা করি। এক, একজন ভুক্তভোগী সন্তান হিসেবে। দুই, একজন মানুষ হিসেবে। সন্তান হিসেবে দেখলে সত্যিই এটি কাউকে বলার মতো না। কারো সাথে শেয়ার করার মতো না, একই সাথে এ ঘটনার প্রতিকার চাওয়ার মতোও না। নিরবে সহ্য করা ছাড়া আর কিছুই করার মতো না। তবু নিজের বিবেক, নিজের অবস্থা এবং নিজের কাছে নিজেকে দায়মুক্ত করার জন্য কিছু একটা তো করতে হবে। আপনি আপনার মায়ের কাছে বিষয়টি জানতে চাইতে পারেন। সরাসরি ঘটনা না বলে, চাচার সাথে কেমন সম্পর্ক, আর কি করা যেতে পারে, ‍তিনি কোনোভাবে বাধ্য বা জিম্মি কিনা। এসব জানার বা বোঝার চেষ্টা করতে পারেন। নিজেদের জমিজমা দেখা বা ম্যানেজ করার আর কোনো বিকল্প পথ আছে কিনা সেসবও বোঝার চেষ্টা করতে পারেন। চাচার সাথে মায়ের এই সম্পর্কের বিষয়ে মা এর নিজের অবস্থান কী, সেটাও বোঝার চেষ্টা করতে হবে। তথ্য জানার উপর নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ। তবে সব অবস্থাতেই নিজেকে স্থির রাখতে হবে। কিছুতেই আবেগ প্রকাশ করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে চাইলে আপনি আমাদের মতো কোনো বিশেষজ্ঞের সরাসরি পরামর্শ নিতে পারেন। কথাগুলি বলার জন্যও আপনাকে একজন সঠিক এবং বিশ্বস্ত মানুষ দরকার। প্রফেশনালরা আপনাকে এই সাহায্যটা করতে পারবে। আপনি তাদের কাছে সব মন খুলে বলতে পারবেন এবং তখন বুঝে বুঝে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

আর মানুষ হিসেবে বিষয়টিকে দেখতে হলে সম্পূর্ণ বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখতে হবে। নিজের উপর এবং নিজের কাজের উপর বিশ্বাস আনতে হবে। নিজেকে কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে। নিজে ভালো বা সুস্থ থাকার বিষয়ে বেশি জোর দিতে হবে। সাথে সাথে এই সমস্যাও মোকাবেলা করতে হবে। ঘটনার পিছনের ঘটনার ব্যাপারে যতটুকু সম্ভব খোঁজখবর নিতে হবে। তারপরই নিজের মতো করে একটা পরিকল্পনা সাজাতে হবে। মায়ের কথা ভাবতে হবে, উনি নিজেই কোনো বিপদে আছে কিনা সেটাও জানার চেষ্টা করুন। বর্তমানের আপনি চাইলে টেবলেট Relafin 50 mg. সকালে একটা করে খেতে পারেন।

ঠিকই বলেছেন। আপনি বর্তমানে বিষণ্ণতায় ভুগছেন। তার চিকিৎসাও করা দরকার। যত কিছুই ঘটুক নিজের প্রতিদিনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। এটা খুবই জরুরি। তা না হলে দুদিক থেকেই সমস্যা হবে। সবশেষে বলছি, আমরা মানবিক মূল্যবোধেই মানুষ। এই মূল্যবোধই আমাদের মূল চালিকা শক্তি। এটাকেও জিইয়ে রাখতে হবে। দ্রুত কোন একটি সঠিক পথ খুঁজে পাবেন সেই কামনা করছি। আশা করি উপরের বিষয়গুলি ভালো ভাবে করতে পারলে একটা ভালো সমাধান পাবেন। আপনাকে ধন্যবাদ।

ইতি,
প্রফেসর ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব

চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক – মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
সেকশন মেম্বার – মাস মিডিয়া এন্ড মেন্টাল হেলথ সেকশন অব ‘ওয়ার্ল্ড সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন’।
কোঅর্ডিনেটর – সাইকিয়াট্রিক সেক্স ক্লিনিক (পিএসসি), মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
সাবেক মেন্টাল স্কিল কনসাল্টেন্ট – বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম।
সম্পাদক – মনের খবর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here