টেলিভিশন সামনে না থাকলে খেতে পারি না

0
475
ফেইল করার ভয়ে পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ করে দিই

আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে নানা ঘটনা,দুর্ঘটনা। যা প্রভাব ফেলে আমাদের মনে। সেসবের সমাধান নিয়ে মনের খবর এর বিশেষ আয়োজন ‘প্রতিদিনের চিঠি’ বিভাগ। এই বিভাগে প্রতিদিনই আসছে নানা প্রশ্ন। আমাদের আজকের প্রশ্ন পাঠিয়েছেন – একরামুল হক (ছদ্মনাম)-

আমার বয়স ৩২। এক বছর হলো বিয়ে করেছি। বেশ আগে থেকেই আমার টিভির সামনে বসে খাওয়ার অভ্যাস। চাকরি সূত্রে বাড়ির বাইরে একা থাকতাম। তখন এই অভ্যাসটা আরো বেশি পাকা হয়। কিন্তু বিয়ের পরও আমি অভ্যাসটা ছাড়তে পারিনি। এখনও আমি টিভির সামনে ছাড়া খেতে পারি না। এটা নিয়ে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া লেগেই থাকছে। কোন পরামর্শ দিবেন কি?

 আপনি নিজেইতো বললেন, এটা একটা অভ্যাস। যা আপনি নিজেই করেছেন, এখন এটা বদলাতে হবে আপনাকেই। এটা সত্যি, ভালো কিংবা মন্দ যেকোনো অভ্যাস পরিবর্তন করতে হলে একটু সমস্যা হয়। আপনার এই অভ্যাসটা যেহেতু পরিবর্তন করতে হবে সুতরাং পরিকল্পনা আপানার নিজের সুবিধা মতো হলেই ভালো হবে। যেকোনো অভ্যাস পরিবর্তনের পদ্ধতি দুই ভাবেই হতে পারে।

  • চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে এবং হঠাৎ করেই আর টিভির সামনে খেতে যাবেনই না। যত কষ্ট বা সমস্যাই হোক।
  • একটু একটু করে বা ধাপে ধাপে অভ্যাসটি বদলানো। আপনি যেকোনো একটি বেছে নিয়ে সেইমতো পরিকল্পনা সাজান।

টিভি দেখা ছাড়া খেতে পারেন না বলতে কি অসুবিধা হয়? যত অসুবিধাই হোক আমার ধারণা সেসব আপানার সহ্য ক্ষমতার মধ্যেই থাকবে। মেনে চলতে পারেন কিছু বিষয়:

  • খাবার টেবিলে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় বসুন।
  • সম্ভব হলে নির্দিষ্ট সময় খাবার খান।
  • একা না খেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে বসে খান।
  • কয়েকদিন পছন্দের খাবারগুলি খেতে পারেন।
  • খাবারের উদ্দেশ্যে বসার আগেই ভালোভাবে চিন্তা করে, কল্পনা করে তারপর বসুন।
  • ভাবতে পারেন, মজা করে খাবার নিচ্ছেন- খাচ্ছেন, খাবার শেষ করছেন তারপর হাতধুয়ে উঠছেন।
  • পুরো বিষয়ট অত্যন্ত সফল ভাবে শেষ করছেন।

আর একটি বিষয়, কাজগুলি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য নিজে নিজেই নিজের জন্য কিংবা পরিবারের সবার সাথে আলোচনা করে নিজের জন্য নিজেই একটি পুরষ্কার ঘোষণা করতে পারেন। এমন যে, আপনি যদি সাতদিন বা নির্দিষ্ট করা কয়েকদিন ঠিক ভাবে কাজটি করতে পারেন তবে একটি পুরষ্কার নিবেন। হতে পারে কোথাও ঘুরে আসবেন বা কিছু একটা কিনবেন।

সবশেষে বলব, পুরো বিষয়টি আসলে আপনার উপরই নির্ভর করবে, আপনি কিভাবে পরিকল্পনা করছেন। আমি শুধু কিছু পয়েন্ট দিলাম। আশা করছি কাজে লাগবে। ধন্যবাদ।

ইতি,
প্রফেসর ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব

চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক – মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
সেকশন মেম্বার – মাস মিডিয়া এন্ড মেন্টাল হেলথ সেকশন অব ‘ওয়ার্ল্ড সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন’।
কোঅর্ডিনেটর – সাইকিয়াট্রিক সেক্স ক্লিনিক (পিএসসি), মনোরোগবিদ্যা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
সাবেক মেন্টাল স্কিল কনসাল্টেন্ট – বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম।
সম্পাদক – মনের খবর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here