মানসিক স্বাস্থ্যের সবকিছু ENGLISH

Home প্রতিদিনের চিঠি ইন্টারনেট এডিকশন একটি মানসিক ব্যাধি

ইন্টারনেট এডিকশন একটি মানসিক ব্যাধি

প্রশ্ন: আজকাল সমাজের সকল স্থানে সকল বয়সীদের মাঝে ফেসবুকে চেক ইন দেওয়া আর সেলফি তোলার প্রতিযোগিতা দেখা যায়। এটাকে কিভাবে দেখেন?
-আহমেদ ইকবাল, বনানী, ঢাকা।
পরামর্শ: এ যুগে সবাই কোনো না কোনোভাবে নানা প্রয়োজনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর মাধ্যমে আমরা বন্ধুবান্ধব স্বজনদের সাথে সহজে যোগাযোগ করতে পারি। এটি এখন আমাদের জীবনের একটি অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এগুলোর পরিমিত ব্যবহারকে আমরা সমর্থন করি। তবে, ইন্টারনেটের সাথে আরো দুটি শব্দ এখন এসেছে। তাহল, ইন্টারনেট এডিকশন। এই ইন্টারনেট এডিকশনটা ভয়াবহ সমস্যা।
কথা হচ্ছে কখন আমরা একে এডিকশন বলব। যেহেতু এডিকশন একটি মানসিক ব্যাধি, কাজেই যে কোনো এডিকশন হতে গেলেই তাকে কতগুলো ডিসঅর্ডার ক্রাইটেরিয়া বা শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রধান কতগুলো শর্ত বা লক্ষণ আমরা এখানে উল্লেখ করতে পারি। যেমন, ইন্টারনেটে আসক্ত রোগীর চিন্তায়-চেতনায় সারাক্ষণ শুধু ইন্টারনেট বিরাজ করবে, এর বিভিন্ন মাধ্যমে সে নিজেকে ব্যস্ত রাখবে; এটা হতে পারে ফেসবুক, পর্নোগ্রাফি, গেমিং ইত্যাদি যা কিছু ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা সম্ভব। তার জীবনের প্রধান আকর্ষণ, কর্মকাণ্ডই হবে ইন্টারনেটকে ঘিরে। ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন হলে রোগীর মধ্যে বিরক্তি, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেবে। অল্প বয়সী টিনএজারদের ক্ষেত্রে জোর করে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলে রাগারাগি, ভাংচুর ইত্যাদি আচরণগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যে কোনো বয়সেই এই ইন্টারনেট আসক্তি দেখা দিতে পারে। তবে এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায় অল্পবয়সী-টিনএইজ ছেলেমেয়েদের মধ্যে।
মারাত্মক যে সমস্যাটি রোগীর জীবনে দেখা দেয় তা হল এ ইন্টারনেট এডিকশন তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো যেমন পারস্পরিক সম্পর্ক, পারিবারিক সম্পর্ক, কর্মক্ষেত্রে বা শিক্ষা ক্ষেত্রে পারফরম্যান্স ক্রমান্বয়ে খারাপ হওয়াসহ জীবনের স্বাভাবিক গতিধারাকে প্রচণ্ড খারাপভাবে ব্যাহত করে। এর সঙ্গে আরও যোগ হয় ঘুমের সমস্যা, উদ্বেগ, অস্থিরতাসহ আরও নানাবিধ মানসিক ও শারীরিক সমস্যা।
তাই, সকলের উচিত হবে ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময়সীমা যেমন: দিনে কতক্ষণ বা কতবার সেটা ব্যবহার করব তা নির্ধারণ করে নেওয়া। এবং সতর্ক থাকা যাতে এটা নেশায় পরিণত না হয়ে যায়।
 
 
 
মন প্রতিদিন-বিভাগে দৈনন্দিন মনোসামাজিক বিষয়ে কথা বলবেন মনের খবর এর সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সালাহ্‌উদ্দিন কাউসার বিপ্লব। আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে ইনবক্স করুন মনের খবর ফেসবুক পেজে: https://www.facebook.com/monerkhabor/
 
 

অধ্যাপক ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব
চেয়ারম্যান, মনোরোগবিদ্যাি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

আমাদের সাথেই থাকুন

87,455FansLike
55FollowersFollow
62FollowersFollow
250SubscribersSubscribe

Most Popular

মানসিক উত্তেজনা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের কিছু সহজ কৌশল

অধিকাংশ সময়ই দেখা যায় আমাদের আবেগ  নিয়ন্ত্রণে থাকেনা, বরং আমরাই আবেগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হই। অতিরিক্ত আবেগ বা অনিয়ন্ত্রিত আবেগ  আমাদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ...

আমার স্বপ্নদোষ অনেক কম হয়

সমস্যা: আমার বয়স ১৮ বছর। আমি কখনো হস্তমৈথুন করিনি।আমার বন্ধুদের কাছে শুনেছি যে ওরা প্রায় সবাই এটা করে। আমিও চেষ্টা করেছি।কিন্তু সুবিধা করতে পারিনি।...

মাদকাসক্তি প্রতিরোধে পরিবারের ভূমিকা

মাদকাসক্তি একটি রোগ। আরো স্পষ্ট করে বললে মাদকাসক্তি একটি মানসিক রোগ বা মস্তিষ্কের রোগ। মাদক সেবন করলে কি ছুসংখ্যক লোক মাদকাসক্ত হয় (আনু. ১০%)।...

বিষণ্ণতা বলতে আপনি যা ভাবছেন সেটা কি আদৌ সঠিক?

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিষণ্ণতা বিষয়ে সার্বজনীন যে ধারণা প্রচলিত আছে সেটি সঠিক নয়। বিষণ্ণতা শুধু মন খারাপ বা অসুখী জীবনযাপন নয়; বরং আরও বিষদ কিছু। বিশেষজ্ঞদের...

প্রিন্ট পিডিএফ পেতে - ক্লিক করুন