একে অপরের মনের খবর রাখি না বলেই আমরা বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পড়ি: চঞ্চল চৌধুরী

0
257
একে অপরের মনের খবর রাখি না বলেই আমরা বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পড়ি: চঞ্চল চৌধুরী
অনেক গুণের অধিকারী তিনি। তাকে নিয়ে লেখা যাবে অসংখ্য বিশেষণ। এক কথায় লিখতে গেলে তিনি বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেতা। তিনি চঞ্চল চৌধুরী। সম্প্রতি মনের খবর টিভিতে মন পবনের নাও নামক একটি অনুষ্ঠানে তারই বন্ধু জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী রাহুল আনন্দে’র সাথে আড্ডায় মিলিত হন এই মহাতারকা। দুই বন্ধুর সেই আলাপচারিতা থেকে মনের খবর অনলাইনের পাঠকদের জন্য “তারকার মন” বিভাগে তুলে ধরা হল চঞ্চল চৌধুরীর মনের কিছু খবর……….

রাহুল আনন্দ: এই মহামারী সময়ে পরিবার নিয়ে কেমন আছিস?
চঞ্চল চৌধুরী: বৃহত্তর অর্থে আমি, আমার স্ত্রী, আমার সন্তান নিয়ে আমার পরিবার নয়। এর সঙ্গে আমার বাবা-মা, ভাইবোন, অন্যান্য আত্মীয় স্বজন, ঘনিষ্ট বন্ধুবান্ধব জড়িত। সব মিলিয়ে যদি বলি তাহলে ভালো নেই। এই মহামারি সময়ে কেউই আসলে ভালো নেই। তারপরও ভালো থাকতে হয়। যে কোনো দুর্যোগ আসবে, প্রকৃতির সাথে লড়াই করতে হবে। সেখান থেকে আবার আমরা দাঁড়াবো, আবার নতুন পৃথিবী রচনা করবো; এইতো।

রাহুল আনন্দ: ছোটবেলা থেকে তোর অনেকগুলি রুপ অর্থাৎ গুণ দেখেছি আমরা। সেসব ছাপিয়ে তুই একজন পরিণত অভিনেতা। তোর আর কোনো রুপ দেখা কি আমাদের বাকী আছি?
চঞ্চল চৌধুরী: অভিনয়টা আমার পেশা। একজন পরিপূর্ণ অভিনেতা হওয়ার জন্য কতটা পথ হাঁটতে হয় সেটা আমি জানি না। তবে আমি চেষ্টা করছি। আর অন্য যে কাজগুলি করি, সেগুলি আসলে আমার ভেতরের ইচ্ছেগুলিকে পূরণ করার জন্য করি। সবচেয়ে বড় যে স্বপ্নটা দেখি সেটা একজন ভালো মানুষ হয়ে বাঁচার। এখন আমি দেশ ও মানুষ ও সমাজের জন্য কিছু করে যেতে চাই। আমি আসলে পেয়েছি অনেক, এখন কিছু দিয়ে যেতে চাই।

রাহুল আনন্দ: প্রচন্ড হাসিখুশি একজন মানুষ তুই। তোকে যতদিন থেকে চিনি; শুধু হাসতেই দেখি। তোর কি কখনও মনে কষ্ট হয়?
চঞ্চল চৌধুরী: একজন মানুষের মধ্যে শুধু হাসি থাকবে, খুশি থাকবে, দুঃখ-কষ্ট থাকবে না; তা তো হতেই পারে না।  আমার চাওয়া অনেক অল্প সেই তুলনায় প্রাপ্তি অনেক বেশি। আবার তার মানে এই না যে আমি যা চেয়েছি তার সব পেয়ে গেছি। আমি শুধু পকেট ভর্তি টাকা চাইনি, আমি চেয়েছি মানুষে মানুষে সু-সম্পর্ক।  মানুষ যেন শুধু দেখতে মানুষ না হয়ে ভেতরেও মানুষ হয়; এটা ভেবে কষ্ট পাই। আর ব্যক্তিগত ভাবে মানুষকে হারানোতে আমি খুব কষ্ট পাই। আর এই করোনাকালে আমাদের পরিচিত অনেক মানুষ পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এটাতে আমি খুব কষ্ট পাচ্ছি। মানুষের ভন্ডামি দেখে কষ্ট পাই, মানুষের চালাকি, লোভ, অসনশীলতা দেখেও আমি ভীষণ কষ্ট পাই।

রাহুল আনন্দ: আমাদের প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু অনুভূতি থাকে যেগুলি আমরা কাছের বন্ধুর সাথে ছাড়া শেয়ার করতে পারি না বা করি না। তোর কি মনে হয় আমাদের মনকে ভালো রাখার জন্য মনের মানুষ বা বন্ধু থাকাটা জরুরি?
চঞ্চল চৌধুরী: অবশ্যই! এটা আসলে একটা দায়বদ্ধতা যে, একজন মানুষ আর একজন মানুষের পাশে দাঁড়াবে। আজকে আমি অসুস্থ হলে একশো দুশো মানুষ এসে খোঁজ নিবে, তার চেয়ে যদি সারাবছরে দু চারবার যদি একটু খোঁজ খবর নেয়; তাহলে সর্ম্পকগুলো বাঁচে, বিশ্বাসগুলো বাঁচে।

রাহুল আনন্দ: তোর নাম চঞ্চল হলেও তোর মধ্যে কখনও চঞ্চলতা দেখিনি আমরা। তোকে দেখেছি অসম্ভব দৃঢ়চেতা!
চঞ্চল চৌধুরী: আমি আসলে খুব জেদী। লক্ষ্য অর্জনের প্রতি খুব জেদী আমি। যখন যেটা করতে চেয়েছি সেটাতে সফল হতে চেয়েছি।

রাহুল আনন্দ: শরীরের যত্নের জন্য আমরা অনেক কিছু করি। তোরও তোর মন খারাপ হয় বা বিক্ষিপ্ত হয়; তখন কিভাবে মনের শুশ্রুষা করিস?
চঞ্চল চৌধুরী: একটা সময় ছিল যে; কেউ কোনো অপছন্দের আচরণ করলে সেটার প্রতিবাদ করতাম। সেটা নিয়ে কখনও ঝগড়া বিবাদে পর্যন্ত করে ফেলতাম। এখন আর সেটা করি না, এখন ধৈর্য্য ধরি, সেটাকে হজম করি, আমি জানি একটা সময় সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। মানুষ উত্তেজনার সময় অনেক কিছু বলে ফেলে, কিন্তু সময় গেলে সে তার ভুল বুঝতে পারে। আমি আসলে মানুষকে তার ভুল বোঝার সময় দিই। এই চুপ থাকা, ধৈর্য্য ধরাটাই আসলে আমার মনের শুশ্রুষা, মনের যত্ন। শরীরের মত আমাদেরকে মনের খবর রাখতে হবে। আমরা একে অপরের মনের খবর রাখি না বলেই বিভিন্ন বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পড়ি।

রাহুল আনন্দ: মন খারাপের সময় তোর কি করতে ভালো লাগে?
চঞ্চল চৌধুরী: মন খারাপের সময় আমি গান শুনি।

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here