সুর আমাদের মস্তিষ্কে যেসব প্রভাব ফেলে!

0
82
সুর আমাদের মস্তিষ্কে যেভাবে প্রভাব ফেলে

নায়িকার বিএমডব্লিউর সাথে ধাক্কা লেগে বাইসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে চিত্র নায়ক ‘খান’ মাথায় চোট পেয়ে সব ভুলে গেছেন। কাউকে চিনতে পারছেন না। এমন কি বাল্যকালের বান্ধবীকেও না।

দুঃখে বাল্যবান্ধবী বাল্যকালের দুজনের সকাল বেকাল জপতে থাকা একটা ডুয়েট শুরু করলেন। শুরু হলো ডুয়েট, “ও আমার পাতার বাঁশির সুর…”, সেই সাথে প্লে-ব্যাক এ ঝিরিঝিরি বাঁশ পাতার কাঁপন আর ‘কলা পাতার বাঁশির’ চিকন সুর ‘পিঁ..পিঁ…পি..’

পুরোনো মিহি সুরের আওয়াজে নায়কের হারানো চেতনা ফিরে আসলো। উঠে বসে তিনিও সুর ধরলেন বান্ধবীর সুরে। তারপর দুজনের একটু চাওয়া-চাওয়ি। ব্যাস সাথে সাথে দর্শকদের মুহূর্মুহু হাত তালি শিস, কারোও বা গাল বেয়ে বইতে লাগলো অশ্রুগঙ্গা।

ভাগ্য ভালো, নায়ক-নায়িকা শৈশবে ‘আড়ালে-আবডালে’, ‘বটগাছে-মগডালে’, শাখামৃগের ন্যায় মাঝেমধ্যে ডুয়েট গাইতেন আর ‘কলা পাতার’ বাঁশী বাজাতেন, ‘প্যা…প্যু….প্যা….প্যু….’। না হলে চেতনা ফেরানো দায় হতো।

সিনেমায় এমন দৃশ্য আর মিউজিকের অদ্ভুত কেরামতি দেখে দর্শকেরা বহুকাল যাবত অবাক! তারা অভ্যস্ত হয়ে গেছে সিকুয়েন্স গুলোয়।

বান্ধবীর গান ধরতেই নায়কের চেতনা ফিরে আসা, অতীতের সকল স্মৃতি এক এক করে ঝলমলে হয়ে ভেসে উঠা, যে কিনা একটু আগে সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে অচেতন ছিলো, এ দেখে মাঝেমধ্যে দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগে, ‘কেনো গান বা সুরে চেতনা ফিরে?’ এর কোন জ্ঞান-বিজ্ঞান ব্যাখ্যা আছে?

মিউজিক থেরাপি:
মিউজিক, গানের সুর হুবুহু এরকম চেতনা না ফিরাতে পারলেও মানুষের ব্রেইনের ‘ভালোলাগা’ নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণ করে অনেক সময় অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। আসুন তা জানার চেষ্টা করি।

ডোপামিন সেরোটোনিন নিউরোট্রান্সমিটার হলো ভালো লাগার নিউরোট্রান্সমিটার। আমাদের যাবতীয় ভালো লাগা, সুখানুভূতির মানেই হলো ব্রেইনে সঠিক সময়ে, সঠিক পরিমাণে ডোপামিন, সেরোটোনিন নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসৃত হচ্ছে। সেজন্যে দেখা যায় সাইকিয়াট্রিস্টরা ডিপ্রেশনের রোগীদের মুড পরিবর্তনের জন্যে সেরোটোনিন বা ডোপামিন নিউরোট্রান্সমিটার বাড়ানোর জন্যে এমন ঔষধ দেন যা ব্রেইনের এসব নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণ বাড়ায়।

মন বিষণ্ণ আছে? গান বা সুন্দর মিউজিক শুনলে ডিপ্রেশন কেটে যায় । সুন্দর সুর বা পছন্দের মিউজিক আপনার মস্তিষ্ক /ব্রেইনের ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ায়। এতে মন খারাপ বা বিষণ্ণতা দূর হয়ে যায়। নিউরোসাইন্টিস্টদের বিভিন্ন গবেষণায় এমন পাওয়া গেছে।

কেউ কেউ পড়ার টেবিলে বসে গানিতিক সমাধান করেন আর নিজের পছন্দের গান শুনেন। এরও কি কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে?

‘হ্যাঁ আছে’। পছন্দের সুন্দর মিউজিক গনিত সমীকরণ গুলো নিঁখুত ভাবে সমাধান করতে সহায়তা করে।

শিশুদের মৃগী রোগে ও মিউজিক থেরাপি চমৎকার কাজ করার কথা বলা আছে। সুন্দর সুরে গান (সফট মিউজিক) খিঁচুনির পরিমান ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়।

এলজাইমার্স বা ডিমেনশিয়া রোগীদের মেমোরি বুস্ট আপ করতেও মেউজিক থেরাপীর ব্যবহার হয় উন্নত বিশ্বে।

মিউজিক মানব শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ব্যাথা নাশক হিসেবে কাজ করে মিউজিক। ব্রেইন স্ট্রোক রোগীর স্ট্রোক রিকোভার এ সহায়তা করে মিউজিক।

কানে সারাক্ষণ ঝুনঝুন আওয়াজ বা টিনিটাস রোগ মিউজিক থেরাপিতে উপশম হয়।

মিউজিক থেরাপি সুক্ষ কাজকে অনেক সময় নিঁখুত ভাবে সমাধান করতে সহায়তা করে। তাইতো শোনা যায়, অপারেশনের টেবিলে দাঁড়িয়ে বিশ্বের অনেক প্রতিভাবান সার্জন মাঝেমধ্যে পছন্দের গান শুনতেন। অপারেশন হতো নিঁখুত।

মিউজিক ও পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ( Religious Melody )
মুসলিম বিজ্ঞানীদের মতে একাগ্রচিত্তে সুমধুর সুরে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত মিউজিক থেরাপির মতোই কাজ করে। নিয়মিত তেলাওয়াত এনজাইটি, বিষণ্ণতা বা হতাশা কাটাতে সাহায্য করে। সুমধুর সুরে নিয়মিত পবিত্র কোরআন রিসাইটেশন বা তেলাওয়াত (রিলিজিয়াস মেলোডি) ব্রেইনের উপর কি কি প্রভাব ফেলে এ নিয়ে গবেষণা চলমান।

মনের খবর মাসিক ম্যাগাজিন ক্রয়ের বিশেষ অফার

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here