কাকে বিশ্বাস করবেন? বিশ্বাস-অবিশ্বাসের পেছনের মনস্তাত্ত্বিক যুক্তি

0
173
কাকে বিশ্বাস করবেন? বিশ্বাস-অবিশ্বাসের পেছনের মনস্তাত্ত্বিক যুক্তি

যখন মনের জোর ধীরে ধীরে কমতে থাকে, তখন উদ্বেগ এবং আশঙ্কা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এতে করে মানুষ যেমন নিজের উপর বিশ্বাস ফারিয়ে ফেলে, তেমনি কাছের মানুষদের বিশ্বাস করবে কি করবে না, কিংবা কাকে বিশ্বাস করবে আর কাকে করবেনা এই নিয়ে খুব দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভোগে। একমাত্র  নিজের উপর বিশ্বাস স্থাপন করার মাধ্যমেই এই উদ্বিগ্নতা দূর করা যায়। কিছু সহজ কৌশলের মাধ্যমে আমরা নিজের উপর যেমন বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারি, তেমনি সাহসের সাথে অন্যদের উপরেও বিশ্বাস স্থাপন করতে পারি।

অনেকেই হয়ত জীবনে অনেক বার অন্যের দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন। বিশ্বাস করে ঠকেছেন। এই কারণে যখনই কোন সময়ে অন্যের উপর ভরসা করার বিষয়টি আসে, আপনি হয়ত নিজের মাঝে গুটিয়ে যান। মন ঠিক সায় দেয়না। মানুষের সাথে মেশার অনিরাপত্তা থেকেই মনের মাঝে ধীরে ধীরে  অবিশ্বাসের জন্ম নেয়। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা সামাজিক জীব। মানুষের সাথে সামাজিক ভাবে মিশেই আমাদের জীবন যাপন করতে হয়। তাই মনের মাঝে বিভিন্ন দ্বন্দ্ব সংঘাত জন্ম নিলে তা নিরসনের চেষ্টা অবশ্যই করতে হবে যেন আমরা সামাজিকভাবে বেঁচে থাকতে পারি।

মানুষের উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হলে আগে নিজের উপর বিশ্বাস আনতে হবে যে আপনি মন থেকে যা ভাবছেন সেটিই সঠিক এবং নির্দ্বিধায় আপনি সেটি করতে পারবেন। আর নিজেকে নিজের মাঝে গুঁটিয়ে রেখে নয়, বরং মানুষের সাথে মিশেই সম্ভব হতে পারে। অন্যদের সাথে আপনার মনের ভাব বিনিময় যত বাড়বে, আপনিও ততোটাই অন্যদের উপর নির্ভর করতে করতে পারবেন।

ইতিবাচক মনস্তত্ত্ববিদ মারটিন সেলিগম্যান-এর মতে, আমাদের কমিউনিটি আমাদের মনের জোর বৃদ্ধিতে খুবই ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। মানুষের সাথে আমাদের ইতিবাচক সম্পর্কগুলো আমাদের ভাল থাকার পেছনে খুব বড় ভূমিকা পালন করে। আমাদের আস্থা,বিশ্বাস,মানসিক প্রশান্তি এসব সম্পর্কেরই ইতিবাচক ফলফল।
মানুষের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়তে হলে আমাদের ভালবাসতে শিখতে হবে। দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটা কাজ মানসিক প্রশান্তির সাথে করতে হবে। এভাবে আমরা শুধু আমাদের কাছের মানুষদের সাথেই শুধু না, বরং সবার সাথে একটি ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারব এবং বিশ্বাসের জায়গা সুদৃঢ় হবে।

বিশ্বাস-অবিশ্বাসের মানসিক দ্বন্দ্ব দূর করতে আপনার খুব বেশি কিছু করার প্রয়োজন হবেনা। শুধু মুখে একটি সুন্দর হাসি, অন্যের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, মিষ্টি ভাষা এবং একটু মনোযোগই যথেষ্ট।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে- https://www.psychologytoday.com/us/blog/your-personal-renaissance/202001/who-can-you-trust-the-roots-our-chronic-anxiety

অনুবাদ করেছেন: প্রত্যাশা বিশ্বাস প্রজ্ঞা

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here