বয়সের ভার বাড়লে কি মনের ভারও বাড়ে?

0
128
বয়সের ভার বাড়লে কি মনের ভারও বাড়ে?
কারও পক্ষে জীবনের সকল সময় সুখে থাকা সম্ভব নয়। বিভিন্ন কারণে মানসিক অসন্তোষ সব মানুষের জীবনেই একটি অতি পরিচিত অভিজ্ঞতা। তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাড়তি বয়স বাড়তি মানসিক অসন্তোষের একটি বড় কারণ।

লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, যারা বয়সে ছোট তাদের মধ্যে মানসিক সমস্যা, যেমন অবসাদ, অসন্তোষ, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি একেবারে নেই বললেই চলে। তারা তাদের বর্তমান সময়কে পূর্ণরূপে উপভোগ করে এবং গভীর চিন্তাভাবনা থেকে দূরে থাকতে পারে। আবার যারা মধ্য বয়সী তাদের জীবন শিশুদের থেকে অপেক্ষাকৃত বেশী জটিল হয়। তাদের চিন্তাভাবনা, মানসিকতা সব কিছুই বেশ জটিল হয়। তাই তারা মানসিক অসন্তোষেও অপেক্ষাকৃত বেশী ভোগে। এভাবেই বয়স যত বাড়ে, মানুষ বিভিন্ন মানসিক জটিলতায় বেশী ভুগতে থাকে এবং তাদের মাঝে অসন্তোষ ও একইভাবে বাড়তে থাকে। তারা বয়সের সাথে সাথে মানসিকভাবে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে। এর কারণ সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে এবং এরকম কেন হয় তার কারণ অনুসন্ধানের প্রয়াস করা হয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে হওয়া গবেষণায় দেখা গেছে বয়সের সাথে সাথে মানসিক অসন্তোষ সহ বিভিন্ন মানসিক জটিলতা সৃষ্টির পেছনে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, পারিপার্শ্বিক ইত্যাদি বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এসব কারণ বিভিন্নভাবে ব্যক্তির মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং এর ফলে মানসিক বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়। তাছাড়া বয়স যেমন শারীরিক পরিবর্তন ঘটায় তেমনভাবে মানুষের মানসিক বিকাশ এবং অবস্থার উপরেও প্রভাব ফেলে। শৈশবে মানুষর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্ত জটিলতা মুক্ত থাকে।  কারণ তার উপর কোন সামাজিক বা পারিবারিক দায়ভার থাকেনা। তারা সম্পূর্ণরূপে তাদের জীবনকে উপভোগ করে কোন রকম মানসিক উৎকণ্ঠা ছাড়া। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার বুদ্ধি বিবেচনা যেমন বাড়ে তেমনি সামাজিক, পারিবারিক, অর্থনৈতিক বিভিন্ন কারণ তার মানসিক অবস্থার উপর আরও বেশী প্রভাব ফেলতে শুরু করে এবং এসবের নেতিবাচক প্রভাবে তারা বিষণ্ণতা, মন খারাপ, দুশ্চিন্তা, ফোবিয়া, মানসিক কষ্ট ইত্যাদি মানসিক পীড়ায় ভোগে।

তাছাড়া বিভিন্ন সামাজিক কারণেও ব্যক্তির মানসিক পীড়া বাড়তে পারে। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষ আরও বেশী সামাজিক হয়ে ওঠে। তার উপর সমাজ, সামাজিকতার দায় এসে পড়ে। সব সময় যে এই সম্পর্ক গুলো ভালোভাবে মেটানো সম্ভব হয় তা কিন্তু নয়। এসব সম্বন্ধ মিটাতে গিয়ে ব্যক্তি বিভিন্ন সময়েই স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন জটিলতার সম্মুখীন হয় এবং সেসব সমস্যার সমাধান করতে না পেরে সে বিভিন্ন মানসিক জটিলতায় ভোগে। তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস কমে যায়। ব্যক্তি নিজেকে গুরুত্বহীন মনে করতে শুরু করে এবং মনের মধ্যে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে একাকীত্ব, বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তা সহ বিভিন্ন মানসিক পীড়ায় ভোগে।

শারীরিক অসুস্থতাও বয়সের সাথেই সাথেই বৃদ্ধি পায়। একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি শুধু বয়সের ভারেই ভারাক্রান্ত থাকেন তা নয়, বরং এই বার্ধক্য তার জীবনে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতাও সৃষ্টি করে। তাছাড়া বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষের মাঝে একাকীত্ব এবং মৃত্যু ভয় ও বৃদ্ধি পায়। শারীরিক জটিলতার সাথে সাথে এসব বিষয় তার মানসিক অবস্থার উপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে অনিদ্রা, একাকীত্ব সহ নানা ধরণের মানসিক সমস্যা বৃদ্ধি পায়।

বয়সের সাথে সাথে মনের এই বার্ধক্য এড়াতে মনবিদ গণ বিভিন্ন ধরণের পরামর্শও প্রদান করেছে যা ব্যক্তির বয়সের ভার এবং মানসিক সমস্যাগুলোর মধ্যে সন্তুলান বিধানে সহায়তা করবে। মানুষের জীবনের সব আশা সব সময় পূর্ণ হয়না। একজন মানুষের উচিৎ একটি নির্দিষ্ট বয়সে যাবার পর সেসব অপূরণীয় আশা নিয়ে সৃষ্ট স্বপ্ন এবং পূরণ না হওয়ায় সৃষ্ট মানসিক পীড়া ত্যাগ করা। তাছাড়া নিজেদের অসহায় না ভেবে অন্যান্যদের সাথে সদ্ভাব বজায় রেখে চলার চেষ্টা করা। এসব বিষয় ব্যক্তির মানসিক পীড়া অনেকটাই লাঘব করবে।

সূত্র: https://www.psychologytoday.com/us/blog/the-asymmetric-brain/202009/what-age-are-we-most-unhappy

অনুবাদ করেছেন: প্রত্যাশা বিশ্বাস প্রজ্ঞা

মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে চিকিৎসকের সরাসরি পরামর্শ পেতে দেখুন: মনের খবর ব্লগ
করোনায় মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক টেলিসেবা পেতে দেখুন: সার্বক্ষণিক যোগাযোগ
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
করোনায় সচেতনতা বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও বার্তা দেখুন: সুস্থ থাকুন সর্তক থাকুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here