করোনা পিতার সাথে সন্তানদের সম্পর্কের জন্য এক আশীর্বাদ

0
135
আপনিই হতে পারেন সেরা বাবা

করোনা তার অনেক অনেক খারাপ এবং ভীতিকর দিক গুলোর পাশাপাশি ক্ষীণ আলো হয়ে জ্যোতি ছড়াচ্ছে পিতার সাথে তার সন্তানদের সম্পর্কের মাঝে। এ যেন ঘন কালো মেঘের ফাঁকে উঁকি দেওয়া এক সূর্য রশ্মি যা পিতার সাথে তার সন্তানদের সম্পর্ককে আরও সুগঠিত এবং সুন্দর করে তুলছে।

করোনা আমাদের সবাইকেই গৃহবন্দী জীবন যাপনে বাধ্য করেছে। আমরা বহু দিন ধরেই স্বাভাবিক কাজকর্ম থেকে দূরে এবং খুবই অস্বস্তিকর এক সময় পার করছি। শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছেনা। পার্কে বা খেলতেও বেরোতে পারছেনা। একই অবস্থা বাসার অন্যান্য সদস্যদের ক্ষেত্রেও। অভিভাবকেরা কাজে বের হতে পারছেন না এবং ঘরে থেকেই প্রয়োজনীয় কাজ সারার চেষ্টা করছেন। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউই বাসা থেকে বের হচ্ছেন না। এমন সময়ে অন্যান্য সমস্যা যেমন হচ্ছে তেমনি অন্য দিক থেকে দেখতে গেলে পিতা মাতা বিশেষ করে পিতা গন তাদের সন্তানদের সাথে অনেক বেশী সময় অতিবাহিত করার সুযোগ পাচ্ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে এসেছে শিশুরা যেরকম চায় আবার আগের মত বাইরে গিয়ে খেলাধুলা করতে, স্কুল যেতে, একইভাবে তারা চায় তাদের বাবা যেন এভাবেই তাদের সাথে বাসায় থাকে। তাদের সাথে এভাবেই সময় অতিবাহিত করে। এর মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট যে শিশুদের সাথে অধিক সময় অতিবাহিত করার ফলে বাবাদের সাথে সন্তানদের সম্পর্কে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে এবং এটা বাবা এবং সন্তান উভয়ের মানসিক ভাব ধারার আদান প্রদানের জন্য অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

আমাদের সামাজিক অবস্থা অনুযায়ী এটা স্বাভাবিকভাবেই দেখা যায় যে বাবাদের তুলনায় মায়েরা তাদের সন্তানদের সাথে অধিক স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের অধিকারী হয়ে থাকে। এখনকার সময়ে বাবাদের সাথে সাথে অনেক পরিবারের মায়েরাই বাইরে কাজ করেন। অনেকেই প্রয়োজনের তাগিদে আবার অনেকে স্বেচ্ছায় বাইরে কাজ করেন। তবু দেখা যায় স্বভাবতই বাবাদের থেকে সন্তানরা মায়েদের কাছে অধিক নৈকট্য লাভ করে। মায়েদের উপর সন্তান লালন পালনের ভার অধিক থাকে বলেই হয়তো তাদের সাথে সন্তানদের মানসিক আদান প্রদান অনেক বেশী হয়। মায়েরা তাদের সন্তানদের মানসিকতা যতোটা ভালোভাবে বুঝতে পারেন বাবারা ততোটা পারেন না। কিন্তু করোনা কালীন এই মহামারীর সময়ে এই অবস্থার অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে। অনেক পরিবারেই দেখা যাচ্ছে গত পাঁচ মাস আগেও যেসব বাবা তাদের সন্তানদের মন মানসিকতা ভালোভাবে বুঝতেন না বা জানতেন না, তারা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশী ওয়াকিবহাল। অনেক বেশী আন্তরিক। মায়েরাও এতে অনেক মানসিক চাপ থেকে থেকে মুক্ত থাকতে পারছেন এবং তারাও অনেক বেপারে তাদের স্বামিদের সাথে বিভিন্ন কাজ ভাগ করে নিতে পারছেন। অনেক সমস্যার খোলামেলা আলোচনা হচ্ছে যা সন্তনাদের মানসিক অবস্থা এবং বাবাদের সাথে তাদের সম্পর্কের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করছে।

জাতি, ধর্ম, বর্ণ, পেশা এবং সামাজিক অবস্থা নির্বিশেষে প্রায় সকল পরিবারেই এই ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষণীয়। গৃহবন্দী এই সময়ে পিতা গণ সন্তানদের সাথে অনেক বেশী বিষয়ে আলোচনার সুযোগ পাচ্ছে।  বিশেষ করে সেসব মানসিক সমস্যা সম্পর্কে তারা জানতে পারছে যা আগে তাদের পক্ষে বোঝার মত সময় ছিলনা। তারা তাদের সন্তানদের পছন্দ-অপছন্দ, ভালোলাগা-মন্দ লাগা, আচার-আচরণ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আরও ভালো ধারণা লাভ করতে পারছে। এছাড়াও তারা সন্তানদের লেখাপড়া, বিশেষ প্রতিভা সহ বিভিন্ন কাজে উৎসাহিত করতে পারছে যা তাদের সন্তানদের মানসিক অবস্থার উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেছে। তারা তাদের দুশ্চিন্তা, অবসাদ, অভাব , অভিযোগ সব কিছু নিয়ে তাদের পিতাদের সাথে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে। একসাথে খাওয়াদাওয়া, খেলাধুলা করা, টিভি দেখা ইত্যাদি কাজ করার ফলে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। তারা একে অপরের মানসিকতা আরও ভালোভাবে বোঝার সুযোগ পাচ্ছে যা আগে সম্ভব হতোনা।

এক কোথায় বলতে গেলে করোনা কালীন এই সময়ে বাবারা নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করার এবং বাবা হিসেবে তাদের সন্তানদের কাছে নিজেদের প্রমাণ করার এক অভূতপূর্ব সুযোগ পেয়েছে। তারা তাদের সন্তানদের সাথে এক নতুন আবেগময়, মানসিক এবং শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছে। আর করোনাকে এজন্য ধন্যবাদ দেওয়া যেতেই পারে।

সূত্র: https://www.psychologytoday.com/intl/blog/once-upon-child/202008/how-the-pandemic-is-strengthening-father-child-relationships

অনুবাদ করেছেন: প্রত্যাশা বিশ্বাস প্রজ্ঞা

মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে চিকিৎসকের সরাসরি পরামর্শ পেতে দেখুন: মনের খবর ব্লগ
করোনায় মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক টেলিসেবা পেতে দেখুন: সার্বক্ষণিক যোগাযোগ
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
করোনায় সচেতনতা বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও বার্তা দেখুন: সুস্থ থাকুন সর্তক থাকুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here