কেন হয় মানসিক রোগ?

0
31

মানসিক রোগ কেন হয়? আমাদের সমাজে মানসিক রোগের কারণ নিয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। আমরা যদি সহজ ভাবে বলি, মানসিক রোগের সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরিভাবে জানা যায়নি। গবেষকগণ বলেন যে তিনটি বিষয় মানসিক রোগের সাথে সরাসরি জড়িত।

১.বংশগত
২.মস্তিষ্কের রাসায়নিক পরিবর্তন
৩.পরিবেশ এবং 
সামাজিক প্রভাব 

ব্রেইন ইমাজিং এবং টমোগ্রাফি পরীক্ষা করে রাসায়নিক পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর উপর ভিত্তি করেই মানসিক রোগের মেডিসিন আবিস্কার হয়। ১৯৫০ সালে ক্লোরপ্রোমাজিন আবিস্কার মানসিক রোগ চিকিৎসায় মাইল ফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্ত পুরনো মেডিসিনগুলির পার্শপ্রতিক্রিয়া বেশি কষ্টদায়ক হওয়ায় ১৯৯০ সালের দিকে দ্বিতীয় প্রজন্মের মেডিসিনের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। রোগীরাও স্বাভাবিক জীবন যাপনে সাবলিলতা ফিরে পাচ্ছে।

অতি সাম্প্রতিক সময়ে জিন থেরাপি বিবেচনা করা হচ্ছে। বংশগতির বাহন হলো এই জিন। যাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে অনেক সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে। শুধুমাত্র আমাদের বাংলাদেশেই না অনেক উন্নত দেশেও মানসিক রোগীরা অবহেলিত। এই রোগের কারণ হিসেবে বলা হয় জ্বিন, ভূত, ডাইনীর আছড়, যাদুটোনা, পাপের ফল, আর কত অদ্ভুত সব কেচ্ছা কাহিনী। এতে করে রোগীর ভোগান্তি বাড়ে আর রোগটিও জটিলতর হয়ে ওঠে। অবশেষে রোগীর স্বজনেরাও হতাশায় ভুগতে থাকে। দিশেহারা সর্বশান্ত হয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন।

তবে আশার কথা এখন মানুষ অনেক সচেতন হচ্ছে। মন খারাপ হলেও কাউন্সেলিং-এর জন্যে প্রফেশনালদের কাছে আসতে শুরু করেছে। আমি মনে করি যদি আমরা আর একটু নিজেদের প্রতি সচেতন হই, পরিবারের প্রতি নজর দেই আর শিশুদেরকে নিরাপদ, নিয়মতান্ত্রিক, স্নেহময়, স্বাবলম্বী, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ দিতে পারি তাহলেই মানসিক রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।


প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। মনের খবরের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই মনের খবরে প্রকাশিত কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না কর্তৃপক্ষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here