করোনা মহামারী কি আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে?

0
87
করোনা মহামারী কি আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে?
মহামারীকালীন এই দুঃসময়ে আমাদের প্রতিটি কাজ এবং চিন্তা ভাবনা যেন করোনাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। তাহলে কি আমাদের সবার দৈনন্দিন জীবনের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই? কি করা উচিৎ যখন এমন আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে করোনার প্রভাব চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে?

এই মহামারী আমাদের দৈনন্দিন জীবন হতাশা, দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা, একাকীত্ব এবং অস্বস্তিতে পরিপূর্ণ করে দিয়েছে। মহামারীতে শারীরিক জটিলতায় অসংখ্য মৃত্যুর সাথে সাথে আমরা মানসিক স্বাস্থ্যের চরম বিপর্যয়কেও প্রত্যক্ষ করছি। করোনা আমাদের জীবিকা, সম্পর্ক, অর্থনৈতিক অবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দৈনন্দিন সুখ আনন্দ মানসিক শান্তি কেড়ে নিয়ে এক দীর্ঘস্থায়ী প্রতিকূল অবস্থার মাঝে ফেলে দিয়েছে যেখানে আমাদের মানসিক প্রশান্তি কিংবা দৈনন্দিন কাজে আমাদের নিয়ন্ত্রণের পরিসর অনেক সংক্ষিপ্ত হয়ে এসেছে। তাছাড়া করোনা আমাদের নিজস্ব পরিসরের মাঝেও তার প্রভাব বিস্তার করেছে। যেমন, আমরা কিভাবে থাকবো, কি পরবো, কি খাবো ইত্যাদি এখন আর ইচ্ছা স্বাধীনভাবে হচ্ছেনা। আমরা কার সাথে মিশবো, কখন এবং কিভাবে মিশবো সেটি করোনা কালে আর আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আবার দৈনন্দিন জীবন কিভাবে পরিচালনা করবো সেটিও আমরা ইচ্ছে মত করতে পারছিনা। আর এগুলো আমাদের জীবনের সেই বিশেষ দিক যেগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আমরা করোনা দ্বারা অংকিত গণ্ডির মাঝে নিজেদের বন্দী ভাবতে বাধ্য হচ্ছি।

এটা স্বাভাবিক যে যখন আমরা আমাদের মনের ইচ্ছা অনুসারে কাজ কর্ম করতে না পারি তখন মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ি। করোনা যেমন আমাদের শরীরের জন্য হুমকি স্বরূপ তেমনি আমাদের মানসিক উদ্বিগ্নতার জন্যও দায়ী। আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে আমরা কি করবো, কোথায় যাবো, কার সাথে দেখা করবো এগুলো এখন আর স্বাভাবিকভাবে করা সম্ভব হচ্ছেনা। করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকতে আমাদেরকে অধিকাংশ সময় ঘরের মাঝেই থাকতে হচ্ছে। বাইরে গেলেও ইচ্ছে মতো সাঁজতে পারছিনা। মাস্ক পরতে হচ্ছে। তাছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সবার সাথে ঘুরতে যাওয়া, আড্ডা দেওয়া সব কিছুই এখন বন্ধ। আবার অনেকের মাঝেই রয়েছে খাওয়া দাওয়া নিয়ে সংশয়। ইচ্ছে মতো খাওয়া দাওয়া না করে বরং মনে রাখতে হচ্ছে কি খেলে আমাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে ইত্যাদি। এভাবেই সব নিজস্বতা হারিয়ে মন মতো কিছু করতে গেলেই আগে মাথায় আসছে করোনা মহামারীর কথা।

উপরের সম্পূর্ণ পরিস্থিতি সত্যিই অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা কেউই চাইনা যে এমন অস্বাভাবিক অবস্থা দীর্ঘ দিন ধরে চলুক বা আমরা আমাদের ইচ্ছে স্বাধীন জীবনে এই পরাধীনতার মানসিকতা নিয়ে বাঁচি। আমাদের সবার মাঝেই এই অস্বস্তি এবং মানসিক চাপ নেতিবাচক চিন্তাভাবনার জন্ম দিচ্ছে এবং আমরা কেউই সামনে এগিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবার আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পারছিনা। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমাদের সবার জীবনেই সুখ দুঃখ দুটিই আছে। বিপদে যদি ধৈর্য হীন হয়ে যাই তবে সেই বিপদ থেকে মুক্তি পাবার মানসিক শক্তি আমরা হারিয়ে ফেলবো। হতে পারে করোনা আমাদেরকে কিছু কিছু কাজের প্রতি বাধ্য করেছে। কিন্তু সেটি কি আমাদের জন্য হিতকর নয়? আমরা কি এর মাধ্যমে সুস্থ থাকতে পারছিনা? সঠিক ভাবে এসব নিয়ম পালন করলে আমাদের শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত হচ্ছে। আর আমাদেরকে এই সুস্থতার প্রতি দৃষ্টি দিয়ে নিজেদের মনের মাঝেও প্রশান্তির ভাব নিয়ে আসতে হবে। নিজেদেরকে বন্দী মনে না করে বরং এগুলোকে পরিবর্তিত অবস্থায় নিজেদের আত্ম রক্ষার কৌশল হিসেবে মনে করতে হবে।  পরিবর্তিত অবস্থাকে মেনে নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা ভাবনা এবং মানসিকতার বিকাশই করোনা মহামারীকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা থেকে বহিষ্কৃত করতে ভূমিকা রাখবে।

সুস্থ থাকার প্রয়াস কখনোই নেতিবাচক হতে পারেনা। তাই সর্বাগ্রে আমাদের মানসিকতায় বদল নিয়ে আসতে হবে এবং করোনাকে আমাদের ইচ্ছে শক্তির দাশ বানিয়ে ফেলতে হবে, নিয়ন্ত্রক নয়।

মনের খবর মাসিক ম্যাগাজিন ক্রয়ের বিশেষ অফার

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here