করোনা মোকাবেলায় মানসিক প্রস্তুতি

0
52
মহামারী করোনার সময়ে উদ্বেগ হ্রাস করতে করণীয়

যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় শারীরিকভাবে সতর্ক থাকার পাশাপাশি মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাও জরুরী। সাহস, আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য এবং সহনশীলতা না থাকলে মহামারীর মত প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ মোকাবেলা করা এক প্রকার অসম্ভব। এই মানসিক কৌশলগুলো এক প্রকার থেরাপির মত কাজ করে।

করোনা ভাইরাস আমাদের সবাইকে এক নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করে দিয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জ হল অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, যা লক্ষ লক্ষ মানুষকে কর্মহীন হওয়ার দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। এছাড়াও রয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা চ্যালেঞ্জ। শুধুমাত্র করোনাই এক্ষেত্রে মূল সমস্যা নয়, বরং মহামারী আমাদের স্বাস্থ্য সম্পদ হ্রাস করছে, এবং এর কোন সঠিক চিকিৎসা না থাকায় চিকিৎসা গ্রহণ বা প্রদানের পরেও লক্ষ লক্ষ মানুষ এর কারণে মৃত্যুবরণ করছে। এসব কিছুর সাথে মুখ্য যে চ্যালেঞ্জটি আমরা সবাই মোকাবেলা করছি সেটি হল মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা চ্যালেঞ্জ।

করোনা ভাইরাসের কারণে আজ আমরা ঘরে আবদ্ধ থেকেও নিশ্চিন্তে থাকতে পারছিনা। আর যদি কোন প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হতেই হয় সেটিও সংকায় পরিপূর্ণ থাকছে। আমাদেরকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে একে অপরের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হচ্ছে যা সব সময় আমাদের মানসিক চাপ বৃদ্ধি করছে। সুতরাং আমাদেরকে ঘরে বা বাইরে, সর্বত্রই মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। এ কারণে, করোনা থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আমাদেরকে এই মানসিক চাপের সাথেও যুদ্ধ করতে হবে এবং সুরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপের উৎসে পরিণত হতে না দিয়ে একে মানসিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার কৌশল হিসেবে গ্রহণ করে আমাদের মানসিক প্রস্তুতির একটা অংশ হিসেবে নিতে হবে।

আমরা শুধু আমাদের নিজেদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েই মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন নই, বরং আমাদের কাছের মানুষদের সুরক্ষা এবং সুস্বাস্থ্য নিয়েও আমরা সমানভাবেই উদ্বিগ্ন। আর এই উদ্বেগ শুধু বর্তমান সময়ের জন্যই নয়, বরং ভবিষ্যতের ভাবনার সাথেও সমানভাবে জড়িত। তাই এখন শুধু শারীরিক স্বাস্থ্য নয়, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও আমাদের  ভাবতে হবে। উদ্বিগ্নতা, দুশ্চিন্তা, হতাশা সহ অন্যান্য মানসিক চাপ যেন আমাদেরকে আরও অসুস্থ করে না দেয় এবং মানসিক ভাবে প্রস্তুত থেকে যেন আমরা নিজেদের ও পরিবারের সুস্বাস্থ্য বজায় রেখে করোনা মোকাবেলা করতে পারি সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

মানসিকভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে প্রথমেই আমাদের প্রয়োজন যে কোন অনুভূতি থেকে দূরে না পালিয়ে সেটিকে স্বাভাবিক ভাবে স্বীকার করে নেওয়া। কোভিড-১৯ আতঙ্ক এখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এ সময়ে আমাদের মাঝে ভয়, হতাশা, উদ্বিগ্নতা ইতায়দি মানসিক চাপ সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমাদের প্রধান সমস্যা হল আমরা এসব মানসিক চাপকে আমাদের চিন্তা ভাবনার মূল কেন্দ্রবিন্দু করে ফেলছি এবং এসব দিকে মনোনিবেশ করে সঠিকভাবে খাওয়াদাওয়া, শরীর চর্চা ইত্যাদি ভাল অভ্যাসগুলোও ভুলতে বসেছি। যা মোটেও ঠিক নয়। এ সময়ে আমাদের উচিৎ এই অনুভূতিগুলোকে মেনে নিয়ে এগুলোর সাথে লড়াই করা। এসব মানসিক চাপ যেন আমাদের ক্ষতির কারণ হয়ে না দাঁড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখা। নিজেদের সব ধরণের পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করা।

এছাড়াও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, আইসোলেশন,কোয়ারেন্টাইন ইত্যাদি বিষয় গুলোর প্রতি ভীতি প্রদর্শন না করে এগুলো সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা এবং এগুলো সুষ্ঠুভাবে মেনে চলে নিজেদের ও পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কোভিড-১৯ আমাদের স্বাভাবিক জীবন ব্যবস্থাকে বদলে দিয়েছে। আমাদের প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের সাথে হয়তো আমাদের বহু দিন দেখা সাক্ষাত হয়নি। এই অস্বাভাবিক অবস্থাকে নিয়ে মানসিক চাপ বাড়ালে চলবেনা। এসব নিয়ে মন খারাপ না করে প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের সান্নিধ্যে থাকার চেষ্টা করা যেতে পারে। নিজেদের ও পরিবারের সুরক্ষার জন্য একে মেনে নিয়ে এগুলোর সাথে লড়াই করাকে করোনা প্রতিরোধের  উপায় হিসেবেই দেখতে হবে।

এভাবে নিজদের মানসিকভাবে করোনা মোকাবেলায় প্রস্তুত করতে হবে। অস্বাভাবিক অবস্থাকে চাপ হিসেবে না দেখে বরং নিজেদের সুরক্ষার উপায় হিসেবে দেখে সেগুলোর সাথে মানসিকভাবে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে। মানসিক প্রস্তুতিই আমাদের শারীরিকভাবে সুস্থ রাখবে এবং সুন্দর আগামীর জন্য প্রস্তুত করবে।

স্বজনহারাদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য পেতে দেখুন: কথা বলো কথা বলি
করোনা বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য ও নির্দেশনা পেতে দেখুন: করোনা ইনফো
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক মনের খবর এর ভিডিও দেখুন: সুস্থ থাকুন মনে প্রাণে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here