কনভার্সন ডিজঅর্ডার: মানসিক রোগের শারীরিক প্রকাশ

0
85

মেয়েটির নাম ছন্দা (ছদ্দ নাম)। বয়স ২৩ বছর। সে আমার কাছে আসে শ্বাসকষ্ট নিয়ে। বেশ কিছুদিন ধরেই সে শ্বাসকষ্টে ভুগছে। অনেক ডাক্তার দেখানোর পরও শ্বাসকষ্টের কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শারীরিক চেক আপ করেও কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। রোগীর সাথে আলাপচারিতায় বোঝা গেলো সে তার পরীক্ষা নিয়ে বেশ দুঃশ্চিন্তায় আছে। বুঝতে পারলাম সেখান থেকেই তার এই শ্বাসকষ্ট রোগের শুরু। মানসিক চাপ অথবা দ্বন্দ্বের যখন সমাধান খুঁজে না পাওয়া যায় তখন তা শারীরিক ভাবে নানা রকম উপসর্গ তৈরি করে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় রোগটির নাম “কনভার্সন ডিজঅর্ডার”।

কনভার্সন ডিজঅর্ডারকে আগে বলা হতো হিস্টেরিয়া (Hysteria)। হিস্টেরা শব্দের অর্থ জরায়ু। সাধারণত এই রোগ মেয়েদেরই বেশি দেখা দেয় কিন্তু ছেলেদেরও হতে পারে। এই ধরনের রোগী প্রায়ই ইমার্জেন্সিতে আসে বিচিত্র সব সমস্যা নিয়ে। কেউ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যায়, কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়, হাত পায়ে শক্তি পায় না, কিছু দেখতে পায় না, কিছু শুনতে পায় না, কারো প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট, কারো মাথা ব্যথা,  কেউ শুধু হেচকি দেয়, কেউ শুধু কাশি দেয়, প্রশ্রাব বন্ধ হয়ে যায়, অস্বাভাবিক কিছু যেমন সন্ধ্যা বেলায় সাদা কাপড় পড়া পা বিহীন মানুষের মতো কিছু দেখতে পায়। সমস্ত দরকারী পরীক্ষা করে যখন কোনো শারীরিক রোগ ধরা না পড়ে, তখনই তাকে কনভার্সন ডিজঅর্ডার বলা যাবে।

সমস্যাগুলো তৈরি হয় অবচেতন মনে। আমরা রোগীর কাছে ভালো করে ইতিহাস নিলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। সাইকোথেরাপী এর মূল চিকিৎসা, তবে কিছু এন্টি ডিপ্রেসেন্ট মেডিসিন ভালো কাজ করে।


প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। মনের খবরের সম্পাদকীয় নীতি বা মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই মনের খবরে প্রকাশিত কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না কর্তৃপক্ষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here